kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

সেতু আছে, সংযোগ নেই

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতু আছে, সংযোগ নেই

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার গাড়াবাড়ী নদীর ওপর এক বছর আগে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় তা কোনো কাজে লাগছে না। ছবি : কালের কণ্ঠ

সেতু নির্মাণ হয়েছে ছয় মাস আগে কিন্তু এখনো তৈরি হয়নি সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গাড়াবাড়ী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি। সেখানে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ১৫ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নানা অজুহাতে কালক্ষেপণের ফলে সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। নৌকা দিয়েই তাই বাধ্য হয়ে সেতু পার হচ্ছে স্থানীয়রা।

ইউনিয়নের গাড়াবাড়ী-হাটখোলা ও নলকা-দশসিকা সড়কের পাশে অবস্থিত গাড়াবাড়ী-বড়হর সড়কের মাথায় প্রায় ছয় মাস আগে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি কামারখন্দ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ নির্মাণ করে। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় এলাকার চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কলেজ, একটি মাদরাসা, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় ১৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হয়ে জেলা শহর ও উপজেলা সদর, থানা, আদালত ও বিভিন্ন অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। গাড়াবাড়ী গ্রামের মোক্তার হোসেন বলেন, ‘সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় আমাদের সমস্যার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে রাতে সমস্যা আরো বেশি হয়।’ চরগাড়াবাড়ী গ্রামের কৃষক সবুর আলী বলেন, ‘মাঠের ধান-পাট নিয়ে বাজারে যাওয়ার এই একটিমাত্র পথই রয়েছে। একে তো রাস্তা খারাপ অন্য দিকে সেতু হলেও তা যাতায়াতের জন্য কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ জরুরি।’

এ ব্যাপারে কামারখন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমি এখানে যোগ দেওয়ার আগে এ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে আমি যতদূর জানি, কাজ শেষ না হওয়ায় ইউএনও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কিছু বিল দেননি। বর্ষার পানি সরে গেলে ঠিকাদারের কাজটি করে দেওয়ার কথা রয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সময় মতো কাজটি করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্ষার পানি সরে গেলেই সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হবে।’ সেতু নির্মাণের ঠিকাদার মিলন রহমান বলেন, ‘এলাকাবাসী মাটি না দেওয়ায় বর্ষার আগে কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্ষার পানি সরে গেলে সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা