kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চুয়াডাঙ্গায় ইজি বাইকের জট

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চুয়াডাঙ্গায় ইজি বাইকের জট

চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে ইজিবাইকের জট। ছবি : কালের কণ্ঠ

যারা যানবাহনে করে কিংবা হেঁটে গন্তব্যে যেতে চায় তারা আগেই ভেবে নেয় কোন পথে যাবে, কোন পথে গেলে ইজি বাইক জট থাকবে না। জরুরি প্রয়োজনে কেউ সদর হাসপাতালে যেতে চাইলে এড়িয়ে চলে হাসপাতাল সড়ক। একইভাবে একাধিক সড়কের সংযোগস্থল শহীদ হাসান চত্বরও এড়িয়ে যায় অনেকে। এড়িয়ে চলে ফেরিঘাট রোডও। কারণ এসব দিকে ইজি বাইক জট থাকবেই। এ চিত্র চুয়াডাঙ্গা শহরের।

জেলা শহরে ব্যাপক হারে বেড়েছে ইজি বাইক। প্রায় সারা দিনই হাসপাতাল সড়কে ইজি বাইক জট থাকে। সকাল আর সন্ধ্যায় এ জট থাকে সবচেয়ে বেশি। অনেকে জট এড়াতে গুলশানপাড়ার ভেতরের সড়ক দিয়ে কিংবা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সড়ক দিয়ে হাসপাতালে যায়। হাসপাতাল সড়কে যানজট এড়াতে প্রায় এক বছর আগে ‘একমুখী সড়ক’ ব্যবস্থা চালু করা হলেও কেউ তা মানে না। ফলে যানজট হয়, আর বেশির ভাগ মানুষ একে ইজি বাইক জট বলে। তাদের মতে, শহরে প্রয়োজনের তুলনায় চার গুণ বেশি ইজি বাইক আছে। ইজি বাইকগুলোর কারণেই সব সড়কে যানজট হচ্ছে। অনেকের মতে, শহরে কমপক্ষে তিন হাজার ইজি বাইক চলাচল করছে।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরে চলাচলের জন্য ৮০০ ইজি বাইকের অনুমোদন আছে। কিন্তু সেখানে চলাচল করে দুই হাজারের বেশি ইজি বাইক। অপ্রাপ্তবয়স্ক অনেককে চালকের আসনে দেখা যায়। যারা কি না বেপোরোয়াভাবে ইজি বাইক চালায়। এ ছাড়া প্রায়ই কোনোরকম সংকেত ছাড়া হঠাৎ মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে দেয় তারা। তার ওপর আছে অনেক অদক্ষ চালক। সব মিলিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। মাঝেমধ্যে সড়কে চলাচলকারী অন্য যানবাহনের যাত্রী কিংবা চালকদের সঙ্গে ইজি বাইকচালকদের তর্ক-বিতর্ক করতে দেখা যায়।

সম্প্রতি সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়, শহীদ হাসান চত্বর, কোর্ট মোড়, একাডেমি মোড়, ফেরিঘাট রোড, হাসপাতাল সড়ক, নতুন বাজার, রেলওয়ে স্টেশনের সামনে, সদর হাসপাতালের ভেতরে ও আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় ইজি বাইক জট বেশি। এমনকি এসব এলাকায় যাত্রীর চেয়ে ইজি বাইকের সংখ্যা বেশি।

বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল মালেক বলেন, ‘পেশাগত কারণে মোটরসাইকেলে সারা শহর ঘুরতে হয়। শহীদ রবিউল ইসলাম সড়ক, শহীদ আবুল কাশেম সড়কসহ শহরের সব সড়কেই ইজি বাইকের কারণে যানজট হয়। রাস্তা বন্ধ করে ইজি বাইক দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের কারণে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ে।’

ট্রাকচালক মজিবর রহমান বলেন, ‘শহরে মাত্র ৩০০ গজ রাস্তা পার হতে ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। ইজি বাইকের কারণে গতি কমিয়ে দিতে হয়। তা না হলে দুর্ঘটনা ঘটবেই।’ একই ধরনের মন্তব্য করেন আরো কয়েকজন চালক।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর জেলা সাধারণ সম্পাদক হোসেন জাকির বলেন, ‘সহজে টাকা উপার্জনের জন্য যে কেউ যখন-তখন ইজি বাইক কিনে কিংবা ভাড়া নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। এভাবে প্রতিদিনই শহরে বাড়ছে ইজি বাইক। তারা যানবাহন চালানোর ব্যাপারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়। এ জন্য যানজট ও দুর্ঘটনা হয়।’

এর অগে জেলা প্রশাসকের একাধিক সভায় ইজি বাইক প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ওয়েবসাইটে ইজি বাইকসংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া আছে। তাতে বলা আছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় চলাচলের জন্য ইজি বাইকচালকদের পৌরসভা থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। পৌর মেয়র স্বাক্ষরিত এ নোটিশ চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পৌরসভার ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে দেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকায় মাইকিং করেও এ নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে। এরপরও অনুমোদন না নিয়েই অনেক ইজি বাইক শহরে চলাচল করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আট শ ইজি বাইক পৌরসভা থেকে অনুমোদন নিয়ে শহরে চলছে। কত ইজি বাইক পৌর এলাকায় চলাচল করে তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো করা হয়নি। তবে (আমার) অনুমান দুই হাজার ইজি বাইক শহরে চলাচল করে।’ অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ইজি বাইকের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। এ জন্য জেলার চার উপজেলায় ইজি বাইক আলাদা আলাদা রঙের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক উপজেলার ইজি বাইক অন্য উপজেলায় যেতে পারবে না। হাইওয়েতে কোনো ইজি বাইক চলতে পারবে না। দুই-তিন দিন আগে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কোন উপজেলায় কত ইজি বাইক আছে—এরও হিসাব রাখা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা হিসাব রাখবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা