kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খুলনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ইস্যু

বন্ধের পর আন্দোলন নেপথ্যে মালিকরা!

কৌশিক দে, খুলনা   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্ধের পর আন্দোলন নেপথ্যে মালিকরা!

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা, নগরজুড়ে যানজট, শব্দদূষণ ও স্বাস্থ্যহানিকর হওয়ায় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খুলনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার এ যানটির চলাচল বন্ধ হয়। কিন্তু এর দুই দিন আগে থেকেই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকে নগরীতে রিকশা চলাচল বন্ধ রেখেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক ও শ্রমিকরা। ফলে খুলনায় হাতে গোনা কয়েকটি পায়ে চালিত রিকশা ছাড়া ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ ক্ষেত্রে অনেককেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে নগরীর গুটিকয়েক রিকশা মালিক, শ্রমিক নেতা ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা রিকশা শ্রমিকরা ব্যাটারি ছাড়াই নগরীতে রিকশা চালাতে চাইলেও এই সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছে। মালিক গ্যারেজ থেকে ব্যাটারি খুলে রিকশা বের হতে না দেওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চালকরা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

রিকশাচালকদের অভিযোগ, মালিক রিকশা না দেওয়ায় রাস্তায় নামা যাচ্ছে না। তারা ইঞ্জিন রিকশার জন্য আন্দোলন করতে বলছে। আবার দৈনিক আয় বন্ধ হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছে।

জানা গেছে, খুলনা নগরীতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রতিদিন ১৭ হাজারের বেশি রিকশা চলাচল করে। যার অধিকাংশই ব্যাটারিচালিত। কিন্তু গত অর্থবছরে মাত্র চার হাজার ২৯৯টি রিকশার লাইসেন্স নবায়ন হয়। বাকি রিকশা চলছে অবৈধভাবে। ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ৩৮৭টি চার্জিং পয়েন্টে চার্জ দেওয়া হয়। চার্জ করা রিকশাগুলো মালিকরা দুটি প্রক্রিয়ায় চালকদের ভাড়া দেন। যার মধ্যে এক চার্জে (সারা দিন চার্জ থাকা পর্যন্ত) চার্জসহ ৩০০ টাকা, দুই চার্জ অর্থাৎ দুই শিফটের প্রতিটিতে চার্জসহ ভাড়া ১৫০ টাকা। অবশ্য পায়ে চালিত রিকশার ভাড়া নেওয়া হয় ১০০ থেকে সর্বোচ ১৫০ টাকা।

ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান মালিক-শ্রমিক লীগের সহসম্পাদক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংগ্রাম পরিষদ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করছি। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন শেখ বলেন, সিটি করপোরেশন অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, অবৈধ ইজিবাইক চার্জ না দিতে চার্জিং পয়েন্ট মালিকদের চিঠি দিয়েছে। তা ছাড়া গত তিন দিনে ৫১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসব মিটার মালিকরা অবৈধভাবে আবাসিকের মিটার দিয়ে চার্জিং পয়েন্ট খুলে ব্যবসা করছিল। জাহিদ আরো বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইজিবাইক চলবে না, এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় দুর্ঘটনার পাশাপাশি শব্দদূষণ ঘটছে। অনিয়ন্ত্রিত ও অত্যধিক ঝাঁকুনির কারণে রিকশাচালকরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা বলছেন। তাই এ নিয়ে ভাবতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বিকল্প চিন্তাও করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা