kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঘর পাননি ৪৭ গৃহহীন

নির্মলেন্দু চক্রবর্তী শঙ্কর, ফরিদপুর   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘর পাননি ৪৭ গৃহহীন

প্রধানমন্ত্রীর ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়ার পরও ঘর পায়নি ফরিদপুরের জেলা সদরের ৪৭টি পরিবার। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাদের ঘর বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু গতকাল শনিবার পর্যন্ত তারা ঘর বুঝে পায়নি। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় নিজ জমিতে ঘর তৈরির জন্য গৃহহীনদের এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। জেলা সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নের চার শতাধিক গৃহহীন পরিবারকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২ নভেম্বর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে তাদের বরাদ্দের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র দুর্নীতি করে এসব নাম বাদ দিয়ে তাদের পছন্দের লোকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ফরিদপুরের সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের চর আদমপুরের মৃত সালমান ফকিরের স্ত্রী হাফেজা বেগম (৫৫)। স্বামীর সূত্রে পাওয়া তিন শতাংশ জমিতে তিনি বাস করেন। বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। তিনটি ছাপরার সবই পাটখড়ির। হাফেজা বেগম বলেন, ‘দুই বছর আগে একটা চিঠি দিছিল ঘর করার টাহা দিবার জন্যি। এহনো পাই ন্যাই। কয়েকবার অফিসেও ডাকছিল। জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র চাইল। সব কিছুই জমা দিছি; কিন্তু ঘর করার আর টাহা দেয় না।’

একই ধরনের অভিযোগ এ প্রকল্পের বরাদ্দপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন, আনোয়ার জমাদ্দার, রেজিয়া বেগম, খোদেজা বেগম, রহিম মোল্যা, আলী বেপারী, আনোয়ারা বেগমসহ অন্যদের। তাঁদের সবাই প্রায় হতদরিদ্র। পাটখড়ির ছাপরাতেই বাস করেন। রিকশাচালক আনোয়ার বলেন, ‘আমাগের ঘর বরাদ্দ হলিও পাই নেই। তয় পাশের রিয়াজুল খাঁ ওই টাকা পাইয়্যা ঘরও তুলছে।’ কী কারণে তাঁদের বাদ দিয়েছে সেটি জানেন না তাঁরা। সম্প্রতি ধার-দেনা করে তিনি পাটখড়ির ঘর বাদ দিয়ে একটি টিনের চালা তুলেছেন ভিটায়।

এ বিষয়ে জানতে তৎকালীন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রভাংসু সোম মহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার সময়ে এই প্রকল্পে ১০টির মতো ঘর হয়। বাকিগুলো সম্বন্ধে আমি কিছু জানি না।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে সময়ে এসব ঘর করার বিষয়টি সরেজমিনে দেখাশোনা করেন ওই কার্যালয়ের তৎকালীন অফিস সহকারী মিজানুর রহমান ও টেকনিশিয়ান জুয়েল মণ্ডল।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা থেকে ঢাকায় পাঠানো তালিকার বাইরে এসব যোগ করা হয়। ফলে বরাদ্দের পরও তাদের নাম বাতিল করা হয়।’ জুয়েল মণ্ডল বলেন, ‘সে সময় উপজেলা চেয়ারম্যান মোহতেশাম হোসেন বাবর এসব বরাদ্দপ্রাপ্তের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে নাম অনুমোদন করিয়ে আনেন। এ ছাড়া প্রকল্পের শর্তানুসারেও কয়েকজনের নাম বাদ পড়ে যায়। তবে এ সংখ্যা ঠিক কতজন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা বলেন, ‘এ ব্যাপারে ১০ জনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এই প্রকল্প নিয়ে কিছু কথা উঠেছে। বরাদ্দের পরও ঘর না পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে কোন দুর্নীতি হয়েছে কি না, সেটিও খুঁজে বের করা হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা