kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কুড়িগ্রাম

‘হামরা নয়া টেরেন দেইখপ্যার আচ্চি’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘হামরা নয়া টেরেন দেইখপ্যার আচ্চি’

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর গতকাল কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ উদ্বোধনের সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় জমায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘এত দিন হামার টেরেন ছিল না। হামরা টেরেনোত চড়ি ঢাকা যাবার পাই নাই। এলাকায় হামার টেরেন হইছে। হামরা নয়া টেরেন দেইখ্যপার আচ্চি।’ কুড়িগ্রাম শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নৈশপ্রহরীর কাজ করেন মজনু মিয়া। কুড়িগ্রাম স্টেশনে নতুন ট্রেনের উদ্বোধনের খবর পেয়ে অন্যদের মতো তিনি ছুটে এসেছেন ট্রেন দেখতে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ট্রেনটির গায়ে ফুল, রঙিন কাপড় আর বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। দেখে চমত্কৃত হলেন মজনু মিয়া। এ সময় তাঁর অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় চার কিলোমিটার দূর থেকে ছুটে এসেছেন মনোয়ারা বেগম নামের এক গৃহবধূ। সঙ্গে তাঁর দুই মেয়ে আর নাতি। বললেন, ‘খুব ভালো নাগছে ভাইজান। এমন টেরেন জীবনে দেখি নাই।’ আট কিলোমিটার দূরের কাঁঠালবাড়ী থেকে বৃদ্ধ নরেশ চন্দ্র তাঁর ভাগিনা গোপী চন্দ্রকে নিয়ে ট্রেন দেখতে এসেছেন। বলেন, ‘জীবনে এই পরথম ঢাকার সাথে কুড়িগ্রামের টেরেন চালু হইল। হামার খুব সুবিধা হইবে।’

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এই প্রথম কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ চালুর দিনে এমন অনুভূতি কুড়িগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের। বছরখানেক আগে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে কুড়িগ্রাম স্টেশনের সংযোগ দেওয়া হয় একটি শাটল ট্রেনের মাধ্যমে। তাও ৪০টির বেশির আসন ছিল না। তাই দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রামের মানুষ একটি আন্ত নগর ট্রেনের দাবি জানিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে পার্বতীপুর থেকে ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছার পর থেকে ট্রেনটি দেখার জন্য মানুষের ঢল নামে। গভীর রাত পর্যন্ত ট্রেন দেখার আনন্দ উপভোগ করেন নানা বয়সী মানুষ। আর বুধবার সকাল থেকে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে কুড়িগ্রাম স্টেশন চত্বরে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা