kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুমাইয়া কি ঢাবিতে ভর্তি হতে পারবেন না?

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুমাইয়া কি ঢাবিতে ভর্তি হতে পারবেন না?

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে আমার মেয়ে। আমি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। জানি না কিভাবে মেয়ের ভর্তির টাকা জোগাড় করব। শুধু ভর্তি নয়, কিভাবে তার পড়ালেখার খরচ জোগাব তাই ভেবে কূল পাচ্ছি না।’ অশ্রুসিক্ত চোখে কথাগুলো বলছিলেন মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তারের বাবা আব্দুল আলিম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট মহল্লায় সুমাইয়া আক্তারের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তাঁর পরিবারের সঙ্গে।

সুমাইয়া আক্তারের বাবা আব্দুল আলিম শারীরিক অসুস্থ। তার পরও সংসারের তাগিদে বাধ্য হয়ে তাঁকে অটোরিকশা চালাতে হয়। তিনি বলেন, ‘সম্পদ বলতে বাড়িটা ছাড়া আর কিছু নেই। সংসার জীবনে আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুজনেই মেধাবী। অর্থের অভাবে ছেলেকে ভালো জায়গায় পড়াশোনা করাতে পারিনি। বর্তমানে ছেলেটি একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থায় স্বল্প বেতনে মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করে। দুজনের আয়ে কোনো মতে সংসারটা চলে যায়।’ 

সুমাইয়া মা-বাবা, ভাই ও ভাবির সঙ্গে বাস করেন। তাঁর নিজের কোনো পড়ার জন্য আলাদা ঘর নেই। তিনি ছোট একটি শোবার ঘরে খাটের ওপর বসেই পড়ালেখা করেন। ঢাবিতে ভর্তির অনিশ্চয়তার বিষয়ে সুমাইয়া বলেন, ‘বাবার পক্ষে ভর্তির জন্য এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। বাবা, ভাই ও শিক্ষকরা মিলে যে অর্থ দিয়েছিলেন, তা তো ভর্তি পরীক্ষার ফরম আর ঢাকায় যাওয়া-আসার খরচ মেটাতেই শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন মনে হয় আমার পূরণ হবে না।’ সুমাইয়া আরো বলেন, ‘কখনো গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে পারিনি। নিজের চেষ্টায় আমি এত দূর এসেছি।

কলেজের শিক্ষক অমিত কুমার ও প্রতিবেশী আরেক শিক্ষক মোছাদ্দেক হোসেন অর্থ ছাড়াই পড়িয়ে সহযোগিতা করতেন।’ সুমাইয়া ২০১৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৭৩ এবং ২০১৯ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা