kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মহাদেবপুর

বেড়েছে সাপের উপদ্রব মিলছে না অ্যান্টিভেনম

মহাদেবপুর-বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ইঞ্জেকশন অ্যান্টিভেনম নেই। অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বিপাকে পড়ছে।

মহাদেবপুরে সাপের উপদ্রব অনেক বেড়েছে। প্রায়ই সাপের আক্রমণের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। ফলে সাপে কাটা রোগীদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে। জরুরি প্রয়োজনে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনার উপায় নেই। কারণ ওষুধের দোকানগুলোতে অ্যান্টিভেনম রাখা হয় না। আবার স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকগুলোতেও এই ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। ফলে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী যেতে হয়। মহাদেবপুর থেকে সড়কপথে রাজশাহীর দূরত্ব ৮১ কিলোমিটার। পথে যেতে অনেক সময় যানজটের কবলে পড়তে হয়। এতে অন্যত্র স্থানান্তর করতে গিয়ে প্রায়ই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এ ব্যাপারে উদাসীন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সাপের কামড় প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কৌশলপত্রে’ বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছে পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৯ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বছরে মারা যাচ্ছে ছয় হাজার ৪১ জন। অথচ উপজেলা পর্যায়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালে সাপের বিষক্ষয়ের ওষুধ (অ্যান্টিভেনম) নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বছরে বিশ্বব্যাপী ৭৯ হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়। অন্যদিকে প্রায় চার লাখ মানুষ সাপের কামড়ের কারণে অন্ধত্বসহ নানা ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সাপের বিষক্ষয়ের ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন ইঞ্জেকশন প্রয়োগের পর আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকের তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন কি না, এই আশঙ্কায় কিছু চিকিৎসক সাপের বিষক্রিয়ার চিকিৎসা করতে চান না। সাপের কামড়জনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার শহরের তুলনায় গ্রামে অনেক বেশি। কুসংস্কারের কারণে সাপের কামড়ের শিকার অনেকে প্রথমে চিকিৎসকের কাছে যায় না। এর পরিবর্তে কবিরাজের শরণাপন্ন হয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে সাপে কাটা ব্যক্তির জীবন হুমকির মুখে পড়ে যায়।

এ ব্যাপারে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আখতারুজ্জামান আলাল বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নেই। আর অ্যান্টিভেনম ছাড়া সাপে কাটা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসাও হয় না। তাই হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী এলে রাজশাহী পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে অনেকেরই জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা