kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

মনোহরগঞ্জ

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় হুমকি

কামাল হোসেন

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করায় ভয়ভীতি ও মামলা-হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও লুটপাটের কথা উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের কাছে পৃথক অভিযোগ করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. খোরশেদ আলম বাবুল ও নুরে আলমকে এ হুমকি দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ দুটি করা হলে প্রথম দফা তদন্তের পর এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে তদন্ত শেষে কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দ্বিতীয় পর্যায়ের তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সর্দার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রতিটি প্রকল্পে প্রায় চার লাখ টাকার মধ্যে মেম্বারদের এক লাখ টাকার মাটির কাজের টার্গেট দিয়ে গত তিন বছরে ৩০টি প্রকল্পের ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন। ৪০ দিনের কর্মসূচির নন-ওয়েজ খাতের ৫ শতাংশ প্যালা ওয়াল নামেমাত্র প্রকল্প দিয়ে স্থানীয় মানরা পাকা রাস্তা থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত এক লাখ ৬২ হাজার টাকা, নেয়ামতপুর পাটারীবাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত ৯৪ হাজার টাকা, বাদুয়াড়া গজারিয়া পুকুরের পশ্চিম পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বাদুয়াড়া মধ্যপাড়া প্যালাসাইডিং ৭৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। বাস্তবে এ প্রকল্পগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। আলীনকিপুর স্কুল থেকে চৌধুরীবাড়ি রাস্তায় তিন বছরে ৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। যার মধ্যে ১ শতাংশ এডিবি এলজিএসপি জেলা পরিষদে বরাদ্দ রয়েছে।

প্রতি ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি পাইপ ক্রয় বাবদ উপজেলা এডিবির তিন বছরে চার লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন কামাল হোসেন। তিন বছরে টিআর, কাবিখা, কাবিটার কোনো কাজ না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন। তা ছাড়া সোলার ও আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ, বিভিন্ন ভাতার কার্ড চেয়ারম্যানের আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বিতরণ করা হয়।

অভিযোগে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, একই স্থানে প্রতিবছর সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার দাপট, স্বেচ্ছাচারিতা, দলীয় কর্মীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি আমলে নিয়ে দুদক কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলে। যার স্মারক নম্বর ৪২৯৪০ (তারিখ ৩১/১২/২০১৮)। এরপর জেলা প্রশাসক সরেজমিনে তা তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য মনোহরগঞ্জের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম বানুকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গড়িমসি করে অযথা সময়ক্ষেপণ করেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সর্দারকে তদন্তভার দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, যে দপ্তরের অধীনে দুর্নীতি, সেই দপ্তরেরই কর্মকর্তা দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সর্দার তাঁদের না ডেকে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছেন। দীর্ঘ সময় তদন্তকাজের অগ্রগতি না হওয়ায় অভিযোগকারীরা হতাশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ব্যাংকের তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের স্বাক্ষর চেয়ারম্যান কামাল তাঁর অনুগত সাইফুল মেম্বারের মাধ্যমে নকল করে কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন। সার্বিক বিষয়ে মুখ খোলেন ইউনিয়ন পরিষদের অন্য মেম্বাররা। একই ইউনিয়ন পরিষদের তালতলা নুরানি মাদরাসার মাঠ ভরাটে ৪০ দিনের কর্মসূচি দিয়ে ৩৫ ট্রাক্টর মাটি ফেলে তিন লাখ ৯২ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন। এসব বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি-ধমকি এবং মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সর্দার বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাকে হেয় করতেই এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

অভিযোগকারী আওয়ামী লীগ নেতা মো. খোরশেদ আলম বাবুল বলেন, ‘অভিযোগ করার পর প্রথম যে কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে দেওয়া হয়, তিনি টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে আরেকজনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা দুদকের কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে তা তদন্তের আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই। আমাদের এখন নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দেখে নেবে। সঠিক তদন্ত হলে চেয়ারম্যানের সব দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা