kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন ঘণ্টায় ভৈরব উপচে ডুবল ফসল

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মেহেরপুর সদরের সীমান্তবর্তী শোলমারী ও শুভরাজপুর গ্রামের ফসলি জমি মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ করে ভারতের জলাঙ্গী নদীর পানি বাড়ায় ভৈরব নদ উপচে পড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে পানির প্রবাহ বাড়তে থাকলে নিম্নাঞ্চলের শত শত বিঘা জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

জানা যায়, গত শনিবার সকাল থেকে ভারতের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার নন্দনপুর রাউতবাড়ী দিয়ে জলাঙ্গীর পানি ঢুকছে এ জেলায়। এই পানি শোলমারী, শুভরাজপুর ও কুতুবপুর গ্রামের পাশ দিয়ে ভৈরব নদে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে পানির গতি বাড়ছে। এতে নদের তীরে থাকা জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

শোলমারী গ্রামের চাষি আসমত আলী বলেন, ‘গত শুক্রবার পর্যন্ত তেমন একটা পানি ছিল না। কিন্তু শনিবার সকালে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে দেখি মরা ভৈরবে পানি আসছে। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে আশপাশের ধান, কলাই, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।’

হাবু আলী বলেন, ‘ভৈরবের পাশে আমার ১৫ কাঠা জমিতে কলাই ও গরুর খাবারের জন্য বিদেশি ঘাস লাগানো ছিল। পানি ওঠার খবর শুনে দ্রুত জমিতে গিয়ে দেখি সব ডুবে গেছে।’

শুভরাজপুর গ্রামের আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘শোলমারী দিয়ে পানি ঢোকার খবর শুনে নদের ধারে যাই। সেখানে আমার পাটখড়ি শুকাতে দেওয়া ছিল। কোনোরকমে সেটা উদ্ধার করলেও দুই বিঘা জমির উঠতি ধান চোখের সামনে তলিয়ে গেল।’

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত কোনো পানি ছিল না। শনিবার সকাল থেকে পানি ঢুকছে। এতে আমাদের গ্রামের অনেক ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ পানি এসেছে তাতে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। তবে পানির গতি বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মাসুদুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি দেখার জন্য আমরা কৃষি বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখনো তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা