kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভণ্ডের কাণ্ড

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভণ্ডের কাণ্ড

চাটমোহরের নিমাইচড়া সমাজ বাজারের পাশে একটি বদ্ধ ঘরে রোগীদের কবিরাজি চিকিৎসা চলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচরা সমাজ গ্রামের আব্দুল আহাদ (৪০) নিজেকে ‘অধ্যাত্মিক কবিরাজ’ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চলছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটি বদ্ধঘরে রোগীদের আটকে রেখে চলে তাঁর ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগী তাঁর আখড়ায় আসেন চিকিৎসা নিতে। তবে রহস্যজনক কারণে তাঁর প্রতারণার বিষয়ে মুখ খুলছেন না কোনো রোগী কিংবা তাঁর স্বজনরা। এলাকার প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যতা রেখে ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে এমন প্রতারণা করে চলেছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে নিমাইচরা গ্রামে আব্দুল আহাদ কবিরাজের আখড়ায় গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনের দোচালা ঘরে চেয়ার পেতে বসে আছেন কবিরাজ আব্দুল আহাদ। সেখানে রোগীদের ভিড়। প্রথমে রোগীকে কাছে নিয়ে একটি কালো কাচের ওপর হাত রেখে তার খুঁটিনাটি কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেন। পরে রোগীদের কাউকে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা, কাউকে পানিপড়া, কাউকে দেন তাবিজ-কবজ। আর এই ধরনের সেবা দিয়ে রোগীপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকার সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। বিলাসবহুল বাড়ি করে তিন স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। কবিরাজের চেম্বারে কোনো প্রকার হট্টোগোল যেন না হয়, সে জন্য তাঁর আশপাশে সব সময় পাঁচ-সাতজন যুবক পাহারায় থাকে। এ ব্যাপারে কবিরাজ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘আমি মানুষের সঙ্গে কোনো প্রতারণা করছি না। আমার বাপ-দাদারা কবিরাজি চিকিৎসা করতেন। তাঁদের মাধ্যমে আমিও কবিরাজি চিকিৎসা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। আমি মূলত জন্ডিস, বন্ধ্যত্ব, বাত ব্যথা, জিন-পরির আচড়, চর্ম-যৌন রোগের চিকিৎসা করি। মানুষ উপকার পায় বলেই আসেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘আমি এসি ল্যান্ড সাহেবকে বলে দিচ্ছি। তিনি দ্রুত ওই কবিরাজের বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা