kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সংকোচনে সংকটে কপোতাক্ষ

শাহানুর আলম উজ্জ্বল, চৌগাছা (যশোর)   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংকোচনে সংকটে কপোতাক্ষ

যশোরের চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা। ছবিটি ধুলিয়ানি ইউনিয়নের ছোট কাবিলপুর গ্রাম থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের চৌগাছায় দখল আর দূষণে প্রাণ হারাতে বসেছে কপোতাক্ষ নদ। এ অবস্থায় নদটি দ্রুত খননের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ যশোর ও ঝিনাইদহের ২০টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা ও ৯৫টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। এ নদ একসময় ৭৫০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত ছিল। আর নদটির দৈর্ঘ্য ছিল ২৬০ কিলোমিটার। তখন এ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস ছিল কপোতাক্ষ। এ নদ দিয়ে নৌকায় করে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হতো। নদসংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ কপোতাক্ষ থেকে মাছ ধরে পেট চালাতেন।

কিন্তু দিন দিন নদটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ছে। নারায়ণপুর, পেটভরা, টেঙ্গুরপুর, চৌগাছা, কংশারিপুর, দিঘলসিংহা, মাশিলা, কদমতলা, কাবিলপুর, খলশিসহ বিভিন্ন স্থানে নদের পারের জমি দখল হয়ে গেছে। চৌগাছা বাজার এলাকায় নদের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে বহুতল ভবন। অনেকে রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে এসে এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় নদ দখলের পর বস্তি তৈরি করে থাকছে। যেন দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। এ ছাড়া নদের সীমানার মধ্যে শতাধিক স্থানে বাঁশের পাটাতন দেওয়া হয়েছে। ফলে নদ তার স্বাভাবিক গতি হারাচ্ছে। এতে কিছু কিছু স্থান কচুরিপানায় ভরে গেছে।

আক্ষেপের সুরে নদপারের জেলে অমল বলেন, ‘নদ আর নদ নেই। এ নদে সরকারিভাবে প্রতিবছর মাছ অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে প্রভাবশালীরা নদ দখল করে মাছ চাষ করেন। ফলে গরিব জেলেরা এ মাছ আহরণ করতে পারেন না। নানা কারণে প্রতিনিয়ত কপোতাক্ষ নদ অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু যেন দেখার কেউ নেই।’

কালকেপুর গ্রামের কৃষক আবদার রহমান খোকন বলেন, ‘একসময় প্রমত্তা কপোতাক্ষ নদ থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে ফসলি জমিতে সেচ দিতাম। কিন্তু এখন আর সে অবস্থা নেই। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে জমিতে সেচ দরকার হলেও সেই সময় নদ শুকিয়ে থাকে। ফলে নদ এলাকায় সবজি চাষ করা সম্ভব হয় না। গভীর নলকূপ থেকে সেচ দেওয়া হলেও সেচের পানি কিনতে হয় চড়া মূল্যে। তা ছাড়া গভীর নলকূপের পানির চেয়ে কপোতাক্ষর পানি জমির জন্য বেশি উপকারী। কেননা এ পানি (জমিতে) জৈব সারের কাজ করে। কিন্তু নদটি নানা কারণে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত নদটি খনন করা না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।’ নদী গবেষক এম মুজাহিদ আলীর মতে, নদটি ১২০ কিলোমিটার খনন করা উচিত। তাহলে নদ অববাহিকায় শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ নদ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদ-নদী দখলমুক্ত করার জন্য সরকারিভাবে নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কপোতাক্ষ নদকে দখলমুক্ত করব। ইতিমধ্যে অবৈধ দখলকারীদের নাম-ঠিকানার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রথমে আমরা তাঁদের নোটিশ করব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা না মানলে নদ দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদ দখল করে চাষবাস, পুকুর বা আবাসন তৈরি করা যাবে না। এমনকি নদের বুকে পাটাতন দেওয়া যাবে না। যাঁরা এ অপরাধ করবেন এবং সরকারি নির্দেশনা মানবেন না তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে মামলা করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা