kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আকর্ষণ হারাচ্ছে সিটি চিকলি পার্ক

বিকল হয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন রাইড

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আকর্ষণ হারাচ্ছে সিটি চিকলি পার্ক

রংপুর নগরীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চিকলি বিলের পারে সিটি চিকলি পার্কের লেকের স্পিডবোট নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ডাঙায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুর নগরীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চিকলি বিলের পারে নির্মিত হয়েছে সিটি চিকলি পার্ক। বিনোদনপিপাসু মানুষের জন্য মনোরম পরিবেশে নির্মিত পার্কটি শুরুতে দৃষ্টিনন্দন ছিল—এখন তা নেই। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এই পার্ক এখন অনেকটা বিড়ম্বনার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিকল হয়ে পড়ে আছে শিশুদের জন্য তৈরি রাইডগুলো। নেই আগের মতো রমরমা দর্শনার্থী। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে পার্কের ভেতরে বেড়েছে অনৈতিক কার্যকলাপ। এতে উদ্বিগ্ন নগরের সচেতন মহল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিলে ঘোরার জন্য আছে স্পিডবোট। আছে শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য ট্রেন, চরকিসহ বিভিন্ন ধরনের রাইড। গত কয়েক বছরে ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ কেড়েছে জায়গাটি। দূর-দূরান্ত থেকে দল বেঁধে বনভোজন করতে এখানে আসে অনেকেই। কিন্তু ইদানীং বিলের দুই পাশে গড়ে তোলা বসার বেঞ্চগুলো ভেঙে পড়েছে। ময়লার স্তূপে সৌন্দর্য হারাচ্ছে এখানকার সবুজ বৃক্ষ সমারোহ। শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় ট্রেন, চরকিসহ অন্যান্য রাইডের বেশির ভাগই পড়ে আছে বিকল হয়ে। বিলের বুকে এখন আর ছুটছে না স্পিডবোট। পার্কের ভেতরের খুদে দোকানিরা দর্শনার্থীর অভাবে লোকসানের মুখে পড়েছে। কেউ কেউ ব্যবসাও গুটিয়ে নিয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সাবেক মেয়র শরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টুর আমলে চিকলি বিলের চারপাশ সংরক্ষণ করে পুরো এলাকাটিকে বিনোদন পার্ক হিসেবে সাজানো হয়। নগরীর হনুমানতলা এলাকায় শত বছরের প্রাচীন এই চিকলি বিলে শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত থাকে জলাধার। নগরবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অভাবে চিকলি বিল পার্কের আকর্ষণ কমে গেছে।

স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চিকলি পার্কে বেড়াতে আসা গঙ্গাচড়া উপজেলার কিসামত হাবু এলাকার চাকরিজীবী হাসান আরিফ বলেন, ‘আগে শুনেছি, চিকলি পার্কের পরিবেশ খুবই ভালো। কিন্তু বেড়াতে এসে যা দেখলাম, তা সত্যি বিব্রতকর। আসলে এখানে রুচিশীল মানুষের আসা ঠিক নয়।’

কুড়িগ্রাম থেকে আসা বন্ধু সৈকত নাঈমকে নিয়ে চিকলি পার্কে ঘুরতে এসেছেন নগরীর সেনপাড়া এলাকার নয়ন মিয়া। স্থানীয় এই যুবক জানান, প্রথম দিকে চিকলি পার্কে বিনোদনপিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। তখন পরিবেশও ভালো ছিল। এখন বসারও জায়গা নেই। বেড়েছে বখাটেদের উৎপাত।

সিটি চিকলি পার্কের এমন পরিবেশে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। তারা মনে করছে, পার্কে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে দর্শনার্থীবিমুখ হয়ে উঠবে জনপ্রিয় এ পার্ক। এতে আর্থিক মুনাফা থেকেও বঞ্চিত হবে সিটি করপোরেশন।

স্থানীয় নাট্যকর্মী রাজ্জাক মুরাদ বলেন, শিশু-কিশোরদের ব্যবহার উপযোগী বিকল রাইডগুলো দ্রুত সচল করা হলে পার্কে আবারও শিশুদের আনাগোনা বাড়বে। অন্যদিকে দর্শনার্থীদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আগের মতোই বিনোদনপ্রিয় মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে সিটি চিকলি পার্ক।

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, পার্কের প্রবেশপথটি নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের ব্যবহার উপযোগী করতে বিকল রাইডগুলো সংস্কারের পাশাপাশি পার্কের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সিটি চিকলি পার্কটি আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা