kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নবীনগর পৌরসভা নির্বাচন আজ

দুই এমপির ভাবমূর্তির লড়াই

বিশ্বজিৎ পাল বাবু ও গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই এমপির ভাবমূর্তির লড়াই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভা নির্বাচন আজ সোমবার। এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একাট্টা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে এই নির্বাচন স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লড়াইও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত অনুদান দেওয়া ঠিক না বলে মন্তব্য করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের এমপি এবাদুল করিম বুলবুল। পরে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দিলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনে কিছুটা কষ্ট থেকেই যায়। তবে সেই কষ্ট এখন চাপা পড়ে গেছে। নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিব শংকর দাসকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার পেছনে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন এমপি। আগের মনোভাবের কালিমা মোচন করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে তিনি দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করাতে তিনি বেশ আন্তরিক বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি-নিষেধের কারণে প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না তিনি।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত পৗর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান শিব শংকর। সে সময় অনেকে অভিযোগ তোলে, আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগে তৎকালীন এমপি ফয়জুর রহমান বাদল যথাযথ ভূমিকা নেননি বলে নৌকা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি।

তবে বর্তমান এমপির পাশাপাশি সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান বাদল ও তাঁর অনুসারীরাও এবার উঠেপড়ে লেগেছেন শিব শংকরের জন্য। বর্তমানে দেশের বাইরে থাকা ফয়জুর রহমান বাদল এরই মধ্যে শংকরকে বিজয়ী করতে তাঁর অনুসারীদের কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

অনেকে মনে করছে, বর্তমান ও সাবেক এমপির ‘দুর্নাম’ গোছানোর মোক্ষম সুযোগ এ পৌর নির্বাচন। আর এ কারণেই তাঁরা এবার উঠেপড়ে লেগেছেন দলীয় প্রার্থীর জন্য। আর এটিই মূলত এগিয়ে রাখবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে। এ ছাড়া বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকার সুযোগও আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজে লাগাতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ইভিএম ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতিও শেষের পথে। এরই মধ্যে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে। মোট ৩৬ হাজার ৩৬৪ জন ভোটার। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভার এটি দ্বিতীয় নির্বাচন। মেয়র পদে ১১ জন, কাউন্সিলর পদে ৬৩ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে শিব শংকর ছাড়াও আওয়ামী ঘরানার হিসেবে পরিচিত বশির আহমেদ সরকার পলাশ, পারভেজ হোসেন, মনির হোসেন ও জায়েদ প্যারিন মেয়র পদে লড়ছেন; যদিও বাকি চারজনের পক্ষে দলের উল্লেখযোগ্য কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শাহাবুদ্দিন। তবে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা মঈনুদ্দিন মঈনু দল থেকে পদত্যাগ করে প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া প্রার্থী হয়েছেন সাবেক পৌর প্রশাসক মলাই মিয়া ও বিএনপি ঘরানার ফারুক আহমেদ। এর মধ্যে ফারুক আহমেদ অবশ্য শিব শংকরকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

শিব শংকর বলেন, ‘দলের সবাই আমার প্রতি বেশ আন্তরিক। নির্বাচন ঘিরে তাঁরা যথেষ্ট পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া যেভাবে সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছি, তাতে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বশির আহমেদ সরকার পলাশও। সার্বিক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার প্রয়াত বাবা একজন সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর কারণে আমি অনেক ভোট পাব। আমি জনগণের কাছ থেকেও যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি।’

সাবেক মেয়র মো. মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আমার আমলে যে পরিমাণ কাজ করেছি, জনগণ তাতে খুশি। এর মূল্য জনগণ আমাকে দেবেন বলেই আমি আশাবাদী।’

সাবেক পৌর প্রশাসক মলাই মিয়া বলেন, ‘প্রশাসক হিসেবে থাকার সময় আমি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এটাই হবে আমার শেষ নির্বাচন। আমি মনে করি, জনগণ আমার কাজের মূল্যায়ন করে মেয়র পদে জয়যুক্ত করবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা