kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চুয়াডাঙ্গা

গলার কাঁটা তিন রেলগেট

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গলার কাঁটা তিন রেলগেট

চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদাহ সড়কের রেলগেটে যানজট। ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রেলগেটে যানজট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে একাধিকবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো ফল পায়নি। কয়েকটি সামাজিক সংগঠন সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছে; কিন্তু লাভ হয়নি। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে একাধিকবার।

চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলস্টেশনের পাশে আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলগেট। এ সড়কটি মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ-ঢাকার প্রধান সড়ক। চুয়াডাঙ্গা থেকে ঝিনাইদহ অতিক্রম করে ঢাকা, যশোর-খুলনা ও কুষ্টিয়া রুটে শত শত গাড়ি চলাচল করে থাকে। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের অন্য পাশে আছে বেলগাছি রেলগেট। ওই সড়কটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গা শহরে আসে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কের মুন্সীগঞ্জে রয়েছে আরো একটি রেলগেট। সেখানেও দেখা দেয় তীব্র যানজট। এ ছাড়া খুলনা-রাজশাহী, খুলনা-গোয়ালন্দ, খুলনা-ঢাকা ও খুলনা-সৈয়দপুর রুটে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে প্রতিদিন ২৮ থেকে ৩০টি ট্রেন। এ রুটে ভারত থেকে আসা মালবাহী ট্রেনও চলাচল করে থাকে। এসব ট্রেন অতিক্রমের সময় গেট নামানো হলে সড়কগুলোতে দেখা দেয় তীব্র যানজট। প্রতিবার গেট নামানোর পর ২০-২৫ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। রেলগেটে এই যানজটের কারণে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া রুটে চলাচলকারী সব যানবাহন আটকে দেওয়া হয়। এ চার জেলার যানবাহন ছাড়াও ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের দিক থেকে আসা যানবাহনগুলোও এ যানজটে আটকে পড়ে।

তিনটি রেলগেটের যানজট নিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও লেখালেখি করে। তারা রেলগেটগুলোকে গলার কাঁটা বলে আখ্যায়িত করেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠন জেলা লোকমোর্চা, বাস ও ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের একাধিক সংগঠন রেলগেটে যানজট সমস্যা নিয়ে এর আগে একাধিকবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

চুয়াডাঙ্গা পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, ‘রেলগেটে যানজট নিরসনের জন্য একাধিকবার আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা সমাধানের আশ্বাসও পেয়েছি। আজও কোনো সমাধান হয়নি।’

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন মাস্টার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার কারণে নিয়ম মেনে গেট নামানো হয়। কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয়। কখনো কখনো দুই দিক থেকে একসঙ্গে ট্রেন চলে আসে। এমন ঘটনা সকালের দিকে প্রায়ই ঘটে চুয়াডাঙ্গা স্টেশনের রেলগেটে। তখন একটু বেশি সময় গেট নামানো থাকে। ওই সময় সড়কেও যানবাহন থাকে বেশি।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের পাশের রেলগেটে উড়াল সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তাড়াতাড়ি অনুমোদনও হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা