kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিশু অধিকার সপ্তাহ

ত্রিশালে বাড়ছে শিশুশ্রম

নজরদারি নেই প্রশাসনের

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ত্রিশালে বাড়ছে শিশুশ্রম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সংসারের খরচ মেটাতে অটোরিকশা চালাচ্ছে শিশু আরিফ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পরিণত বয়সের আগে শিশু-কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত না হওয়ার জন্য নানা নীতিমালা থাকলেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। ফলে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনে পড়ে খুব সহজেই শ্রমিকের জীবন বেছে নিচ্ছে শিশুরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পৌর সদরসহ ১২টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মা-বাবার ১০-১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা রীতিমতো শিশুশ্রমে জড়িয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। যে বয়সে তাদের বই, কলম ও খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে হতভাগ্য এসব শিশু। হকারগিরি, কুলিগিরি, ভ্যান-রিকশা চালানো, রাজমিস্ত্রির জোগালি কিংবা ইটভাটায় কাজ করছে তারা।

ত্রিশাল উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন মিল-কলকারখানা, গার্মেন্টশিল্প তৈরি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিথ্যা বয়স দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন আর ভুয়া অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট তৈরি করে অপ্রাপ্ত বয়সেই চাকরিতে ঢুকছে তারা। শিশু বয়সে কঠোর পরিশ্রম আর শারীরিক শ্রমের কারণে হরহামেশাই তাদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

শিশু অটোরিকশাচালক রাশেদ বলে, সংসারে অভাব। তাই বাবা তাকে অটোরিকশা কিনে দিয়েছেন। সে প্রতিদিন যা আয় করে তা সংসারে দিয়ে দেয়।

উপজেলার ছলিমপুর গ্রামের কিশোরী রুজিনা কাজ করে স্থানীয় এক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে। সে বলে, ‘আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালে বাবা এক্সিডেন্টে পঙ্গু হয়ে যায়। ছোট তিন ভাই-বোন আর মা-বাবার ভরণ-পোষণের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট দিয়ে গার্মেন্টে চাকরি নিয়েছি। সেখান থেকে যা পাই তা দিয়ে কোনো রকম টেনেটুনে সংসার চলাই।’ 

উপজেলার সব এলাকার শিশুরাই কমবেশি শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তবে বিশেষ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিশু শ্রমিকদের বেশির ভাগ পিতৃহীন। কারো কারো মা-বাবার বিয়েবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় দেখার মতো কেউ নেই। তাই হাসি-খুশি, দুরন্ত-চঞ্চল এসব শিশুকে বাধ্য হয়ে সংসারের ঘানি টেনে যেতে হচ্ছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাগ্যবিড়ম্বিত হয়ে অনেক শিশুই অকালে ঝরে পড়ছে। দেশে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভাগ্যবিড়ম্বনার শিকার এসব শিশুকে নিয়ে কেউ ভাবে না। তাদের শিশুশ্রম বন্ধ করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় না কেউ। ত্রিশালে শিশুশ্রম বন্ধে আইনের প্রয়োগ না থাকায় প্রতিনিয়ত আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে শিশুশ্রমের সংখ্যা।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের আশপাশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুশ্রম। এ থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা স্কুলগুলোতে প্রতি মাসে একবার অভিভাবক সমাবেশ করছি। তা ছাড়া প্রতি সপ্তাহে এক দিন এলাকায় গিয়ে শিক্ষকরা খোঁজখবর নিচ্ছেন কারা স্কুলে আসছে না। তাদের অভিভাবকদের বিনা মূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তিসহ নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে স্কুলগামী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা