kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাস্তা ছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




রাস্তা ছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক

পাবনার ভাঙ্গুড়ার বেতুয়ান গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার রাস্তা নেই। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বাস্থ্যসেবা দরিদ্র জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশা ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে সাত বছর আগে নির্মাণ করা হয় কমিউনিটি ক্লিনিক। তখন থেকে সাধারণ অসুখবিসুখে উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামের সাত হাজার মানুষের ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিকটি। কিন্তু ১০০ গজের একটি সংযোগ সড়কের অভাবে ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসন ২০১২ সালে বেতুয়ান গ্রামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। তখন গ্রামের কোনো সড়কের পাশে জায়গা না পেয়ে সড়ক থেকে ১০০ গজ দূরে এক ব্যক্তির দান করা জমিতে ক্লিনিকের ভবন নির্মাণ করা হয়। ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা আবাদি জমির আইল দিয়ে ক্লিনিকে যাতায়াত করে। পরে সড়ক থেকে ক্লিনিক পর্যন্ত ওই ১০০ গজ জায়গায় মাটির রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। কিন্তু ওই ১০০ গজ জায়গার মালিক সাবেক ইউপি সদস্য আরজু, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ইদ্রিস আলী, রহমত আলী ও শাজাহান খান তাঁদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেন। এতে ইউনিয়ন পরিষদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এ অবস্থায় ক্লিনিক চালুর চার বছর পর স্থানীয় বাসিন্দারা সংযোগ সড়কের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করে। আবেদনের পরিপ্র্রেক্ষিতে তৎকালীন ইউএনও শামছুল আলম সরেজমিনে গিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু জমির মালিকদের বাধায় আবারও তা ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে জমির আইল দিয়েই ক্লিনিকে যাতায়াত করে সেবাগ্রহীতারা।

বেতুয়ান গ্রামের বাসিন্দা ও পাবনা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জাকারিয়া মানিক বলেন, ‘১০০ গজ রাস্তার অভাবে গ্রামের চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের ক্লিনিকে পৌঁছতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে একাধিকবার আবেদন করেও কাজ হয়নি। এতে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ।’

বেতুয়ান গ্রামের ইউপি সদস্য আক্কাছ আলী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একাধিকবার ক্লিনিকে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্লিনিকের পাশের জমির মালিকদের বাধায় সেটা সম্ভব হয়নি।’ জমির মালিকদের মধ্যে অন্যতম ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ক্লিনিকে যাতায়াতে রাস্তা নির্মাণের জন্য আমি এক চুল পরিমাণ জায়গাও ছেড়ে দেব না। এতে ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেলে যাবে।’

এ বিষয়ে উপজেলার সব কমিউনিটি ক্লিনিকের সমন্বয়কারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবদুল আজিজ বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় রোগীরা ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে যেতে পারে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা