kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিশু অধিকার সপ্তাহ

গ্যারেজে বন্দি স্বপ্ন

ফখরে আলম, যশোর   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গ্যারেজে বন্দি স্বপ্ন

যশোরের পুলের হাটে সাইকেল গ্যারেজে কাজ করছে পারভেজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিশু পারভেজের বয়স ৯ বছর। বালতির ওজন ১০ লিটার। গ্যারেজ থেকে পারভেজ বালতি নিয়ে পানি আনতে যায়। কিন্তু তার টিউবওয়েল চাপার শক্তি নেই। টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে পড়ে গান গায়, ‘তোমার দিল কী দয়া হয় না’।

পাশের শান্তি ছাত্রাবাসের মেহেদী, সাকিব ও মিজান জানালা দিয়ে পারভেজের কষ্ট দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেন না। তিনজনের যে কেউ একজন এসে টিউবওয়েল চেপে বালতি ভরে দেন। এমনকি কিছুটা পথ এগিয়েও দেন তাঁরা। তখন পারভেজ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে কপালের ঘাম মোছে। এরপর বলে, ‘মেহেদী ভাই, আপনারা খুব ভালো।’

যশোর শহরতলির পুলেরহাটে আব্দুস সাত্তারের সাইকেল গ্যারেজে কয়েক মাস ধরে সাইকেল মিস্ত্রির কাজ করছে শিশু পারভেজ। সে সাইকেলের চাকা ধরে ঘোরায় আর একদৃষ্টিতে ঘোরার দৃশ্য দেখে। যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে পারভেজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শিশুদের স্বপ্ন রাঙানোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ পারভেজ এসব খবর জানে না। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা অর্থসংকটে পড়ে তাকে আর পড়াতে পারেননি। কাজে দিয়ে দিয়েছেন। এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যারেজেই কাজ করে পারভেজ। দৈনিক মজুরি পায় মাত্র ৫০ টাকা।

পারভেজ বলে, ‘পড়তে ইচ্ছা করে। আর সাইকেলের চাকার মতো ঘুরতেও ইচ্ছা করে।’ পারভেজের বাবা কুদ্দুস বলেন, ‘ভ্যান চালিয়ে সংসার চলে না। তিন ছেলে-মেয়েকে কিভাবে পড়াব? তাই পারভেজকে গ্যারেজে দিয়ে দিয়েছি।’

মা সকিনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। ভাতের খুব অভাব। এ জন্য পারভেজ কাজ করছে। আশায় আছি, বড় হয়ে সে আরো বেশি টাকা আয় করবে।’

গ্যারেজ মালিক সাত্তার বলেন, ‘পারভেজ ভালো কাজ পারে। মাঝেমধ্যে ও কলে পানি আনতে যায়। আমি ওর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি না।’

যশোর এমএম কলেজের সম্মান শ্রেণির ছাত্র মেহেদী বলেন, ‘আমরা ছাত্রাবাসের জানালা দিয়ে পারভেজের কল চাপার দৃশ্য দেখে ঠিক থাকতে পারি না। প্রতিদিই কল চেপে ওর বালতি ভরে দিই। এতে সে খুব খুশি হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা