kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাঘাটা

এক সড়কে চার সাঁকো

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক সড়কে চার সাঁকো

সাম্প্রতিক বন্যায় গাইবান্ধার সাঘাটা-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক ভেঙে সেতুর দুই পাশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে মানুষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

এ বছরের বন্যায় গাইবান্ধার সাঘাটার ২৫০ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ৫০ কিলোমিটার ভেঙে গেছে। আরো ভেঙেছে ১০টি সেতুর সংযোগ সড়ক। এর মধ্যে চারটি সেতুই সাঘাটা-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বাটি গ্রামে।

এ ছাড়া বেশ কয়েকটি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এ উপজেলাসহ পাশের গোবিন্দগঞ্জের কয়েক লাখ মানুষ বিপাকে পড়েছে। তার ওপর ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। নিজেদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ-কাঠের সেতু তৈরি করে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রেখেছে গ্রামবাসী। তবু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-কালভার্টগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাঘাটা-গোবিন্দগঞ্জ সড়কটি সাঘাটা উপজেলা সদরের বোনারপাড়া ইউনিয়ন থেকে শুরু হয়ে গোবিন্দগঞ্জের রাখালবুরুজ ও নাকাই ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় বাটি গ্রামে চারটি সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। ভাঙা স্থানগুলোতে বাঁশ-কাঠের সেতু তৈরি করেছে গ্রামবাসী। সেতুগুলোর ওপর দিয়ে হালকা যান চলাচল করছে।

সমাজসেবী জাহিদ খন্দকার বলেন, ‘ভারী যানবাহন তো দূরের কথা—ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল উঠলেই সেগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। বাঁশের খুঁটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওপরে কাঠের পাটাতনগুলোও বেহাল। ভেঙে পড়লে কী হবে আল্লাহ জানে। তবু চলাফেরা করতেই হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ শুধু বরাদ্দ আসার কথা বলে সময় পার করছে।’

ভ্যানে করে চালের বস্তা আনছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এখন অনেক পথ ঘুরে আসতে হয়। খরচও বেড়ে গেছে। অনেক ঝুঁকি নিয়েই মালামাল আনতে হয়। এরই মধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটেছে কয়েকটি।’

উন্নয়নকর্মী আফতাব হোসেন বলেন, ‘১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জের অন্তত ২০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সাঘাটা থেকে ভারী যানবাহন গোবিন্দগঞ্জে ও গোবিন্দগঞ্জ থেকে ভারী যানবাহন সাঘাটায় যেতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ীদের কপাল পুড়েছে।’

ফুটানির বাজার থেকে রিকশাভ্যানে করে প্রাইভেট পড়তে বোনারপাড়ায় যাচ্ছিল নবম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা খাতুন। ‘সুযোগ বুঝে পাঁচ টাকার ভ্যান ভাড়া এখন ১৫ টাকা হাঁকা হচ্ছে’ বলে অভিযোগ করে সে।

এ বিষয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল ওয়ারেছ প্রধান বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য এলজিইডিকে জানানো হয়েছে। বারবার কথা বলছি, কিন্তু উত্তর একটাই—বরাদ্দ আসেনি।’

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সংস্কারের প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যাবে। যত দ্রুত সম্ভব মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে কাজ শুরু করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা