kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুন্দরগঞ্জে বখাটের উৎপাতে ছাত্রীর আত্মহত্যা

মাস পার হলেও আসামিরা অধরা

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বখাটের উৎপাতে স্কুলছাত্রী ইয়াসমিনের আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পরিবারের লোকজন। ইয়াসমিন উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের ইয়াসিন আলীর মেয়ে।

মামলা ও পারিবারিক সূত্র জানায়, স্কুলে যাওয়ার পথে ইয়াসমিনকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করত একই ইউনিয়নের নওহাটী চাচিয়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে আলামিন। উত্ত্যক্ত সহ্য করতে না পেরে প্রথমে পরিবারকে জানায় ইয়াসমিন। পরিবারের লোকজন আলামিনের মা-বাবার কাছে এ ব্যাপারে নালিশ করলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। বাধ্য হয়ে ইয়াসমিন বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ইয়াসমিন চাচিয়া মীরগঞ্জ চরকের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মামাতো ভাই-বোন মিলে বাড়ির পাশে যায় ইয়াসমিন আক্তার (১৪)। এ সময় আল আমিন এক দল বখাটকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াসমিনের পথ রোধ করে। বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে ইয়াসমিনকে উদ্দেশ করে অশ্লীল ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলে আল আমিন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আল আমিন ও তার সহযোগীরা ইয়াসমিন ও তার ভাই-বোনকে লাঞ্ছিত করে। এমনকি ইয়াসমিনকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করে। পরে তাদের চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও আশপাশের মানুষ ছুটে এলে বখাটে আল আমিনসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। এ লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে ওই দিন রাতেই বাড়ির সামনের আমগাছে ওড়নার মাধ্যমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ইয়াসমিন।

এ ঘটনায় ইয়াসমিনের বাবা বাদী হয়ে আল আমিনসহ ছয়জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। কিন্তু মামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও জড়িত আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদিকে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উপজেলার সবখানে পোস্টার ও ব্যানার টাঙিয়েছে এলাকাবাসী। সেসব ব্যানারে আসামিদের ফাঁসির দাবি করা হয়।

নিহতের বাবা ইয়াসিন আলী বলেন, ‘বখাটেদের জন্য আমার মেধাবী সন্তান অকালেই মারা গেল। উত্ত্যক্তের মাত্রা কতটা বেড়ে গেলে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে—তা বুঝতে বাকি নেই। আমার মেয়ের আত্মহত্যার জন্য যারা দায়ী, তাদের কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা হতাশ।’

এ ব্যাপারে থানার ওসি এস এম আব্দুল সোবাহান বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে একজনের অবস্থানের কথা চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাদীপক্ষের সহযোগিতা দরকার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা