kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

বহুরূপী আবুল

আলমগীর মিয়া, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহুরূপী আবুল

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিক হোসেনের সঙ্গে আবুল

মূল নাম আবুল। এর সঙ্গে একেক সময় ব্যবহার করেন একেক পদবি। কখনো খান, কখনো মিয়া, আবার কখনো হোসেন। আগে যুবদলের পরিচয় দিলেও এখন যুবলীগ নেতা পরিচয় দেন। প্রতিমন্ত্রী, এমপি, ওসি—সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। রয়েছে ছবিও।

এসব পরিচয়ের আড়ালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাঁশডর গ্রামের জাহির আলীর ছেলে আবুল মূলত একজন প্রতারক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাভেল এজেন্সি খুলে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে তিনি প্রায় ২৫ জনের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় পুলিশ পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ একটি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকিতে একটি মামলাও হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নবীগঞ্জ শহরের সোনারখনি আনোয়ার ম্যানশনের নিহাদ ট্রাভেলসে গিয়ে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। তাঁর ফেসবুক প্রফাইল ঘেঁটে প্রতিমন্ত্রী, এমপি, জেলা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানার পরিদর্শকের সঙ্গে তোলা ছবি দেখা গেছে।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. দিলু মিয়া অভিযোগ করেন, ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে আবুল তাঁকে নিঃস্ব করেছেন। ভিসার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়েছেন। এখন ভিসার কোনো খবর নেই। তিনি বলেন, ‘যদি ভিসা দেওয়ার কথা বলি, তাহলে সে আমাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করার হুমকি দেখায়।’ তিনি প্রতিকার চেয়ে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ করেছেন।

একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন নবীগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আ. করিমের ছেলে কয়েস মিয়া। করিম জানান, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমি বেচে টাকা জমা করেছিলেন। আবুলের খপ্পরে পড়ে এখন নিঃস্ব। দুবাই পাঠানোর জন্য ভিজিটিং ভিসা দেন আবুল। ছেলে ও পরিবারের লোকদের নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে যান। ভেতরে গিয়ে ছেলে জানতে পারেন, ভিসা ও বিমানের টিকিট ভুয়া। হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। পরে কল করা হলে আবুল বলেন, ‘আপনার ছেলে আর কয়েক দিন পর বিদেশে যাবে।’ পরে কথা অনুযায়ী আবুলকে কল দিলে পুলিশ পরিচয় দাবি করে কথা বলেন।

করিম বলেন, ‘এলাকায় আবুলের খুব প্রভাব রয়েছে। সে নিজেকে  যুবলীগ নেতা বলে দাপট দেখিয়ে অপকর্ম করে বেড়ায়। উপজেলা ও জেলা পরিষদের চেয়রম্যান ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে লোকমুখে আমরা জানতে পারি। এ জন্য ভয়ে মামলা করিনি।’

ইমামবাঐ গ্রামের আব্দুল হান্নান জানান, আবুল ২০১৫ সালে তাঁর ছেলে হেলাল চৌধুরীকে জর্জিয়া নেওয়ার কথা বলে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। বিষয়টি এখন গ্রাম্য সালিসে আছে।

তিনি বলেন, ‘মানবপাচারকারী আবুলকে আইনের আওতায় আনা হোক। যাতে আর কোনো নিরীহ পরিবারের মানুষ আমার মতো প্রতারণার শিকার না হয়।’

তাঁর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বাউসা ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও গ্রামের বাশার মিয়া, রিফাতপুর গ্রামের নেওর আলী, কুশি ইউনিয়নের ফুটারমাটি গ্রামের জাকির চৌধুরীসহ ঢাকা, সিলেট, হবিগঞ্জ জেলার অনেকে।

অভিযোগ স্বীকার করে আবুল খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে বসব। সমাধান করার চেষ্টা করব।’

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শাহগুল আহামদ কাজল বলেন, ‘এই নামে যুবলীগের কোনো নেতা নেই।’

নবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।’

হবিগঞ্জ ডিবির পরিদর্শক শেখ সোহেল রানা বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা