kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

সেই পিআইও লাপাত্তা

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই পিআইও লাপাত্তা

নুরুন্নবী সরকার

দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ ওঠা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকার এবার লাপাত্তা হয়েছেন। তাঁর কোনো খবর জানে না স্থানীয় প্রশাসনও। এমনকি তাঁকে একাধিকবার ফোন ও ই-মেইল করেও কোনো জবাব পাননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিন দিনের ছুটি নিয়ে তিনি আর অফিসে আসেননি।

পিআইও নুরুন্নবীর বিষয়ে কিছু জানা নেই জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলীরও। তিনি বলেন, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তিন দিনের ছুটি নেন পিআইও। আমি বিষয়টি আন-অফিশিয়ালি জানতে পারি। তা ছাড়া তাঁর বিষয়ে আমার আর কিছু জানা নেই।’

এদিকে পিআইও নুরুন্নবীর লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ। সংবাদ প্রকাশের পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর বদলির আদেশ দেয় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। তাঁকে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় যোগদান করতে বলা হয়। অন্যথায় ১৬ অক্টোবরের পর তাঁকে তাত্ক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

ত্রাণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন-২) লুত্ফুন নাহার স্বাক্ষরিত বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিন দিনের ছুটি নেন পিআইও। এর পর থেকেই বদলি স্থগিত করতে বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছেন তিনি। এখনো তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে বদলি ঠেকাতে তদবির অব্যাহত রেখেছেন। তা একান্তই না হলে বদলি যেন পাশের কোনো উপজেলায় হয়, সে ব্যাপারে মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন বলে তাঁর এক ঘনিষ্ঠজন জানান। তদবিরে ব্যর্থ হলে শ্রম আদালতে বদলি আদেশের বিরুদ্ধে রিট দাখিলের চেষ্টা করতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তা ছাড়া বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিকে প্রলোভন দেখিয়ে সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আশপাশের জেলায় বদলির তদবির করছেন তিনি।

এদিকে তিনি ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার ফোনও রিসিভ করেন না বলে জানান অনেকে। গত ২ অক্টোবর তাঁর তিন দিনের ছুটি শেষ হলেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। এমনকি এ উপজেলায় নতুন পিআইও মোশাররফ হোসেন যোগদান করলেও তাঁকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি। দায়িত্ব বুঝে না নিয়েই অফিস করছেন নতুন এ কর্মকর্তা।

অন্যদিকে গত ৫ অক্টোবর ‘পিস্তলের ভয় দেখিয়ে ১৪টি প্রকল্পের বিলে স্বাক্ষর নেন পিআইও’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী বলেন, ‘তিনি কোথায় আছেন, তা আমার জানা নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা