kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

মেহেরপুরে মসজিদ নির্মাণেও দুই নম্বরি

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ক্ষুব্ধ বিভাগীয় প্রকৌশলী

ইয়াদুল মোমিন, মেহেরপুর   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেহেরপুরে মসজিদ নির্মাণেও দুই নম্বরি

মেহেরপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ করেছে গণপূর্তের খুলনা বিভাগীয় অফিস। ছবি : কালের কণ্ঠ

মেহেরপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ করেছে গণপূর্তের খুলনা বিভাগীয় অফিস।

১৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯০ টাকা ব্যয়ে মেহেরপুর জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ পেয়েছে এন হোসেন শামীম (জেভি), মিশনপাড়া, পুরান কসবা, যশোর। প্রতিষ্ঠানটি মডেল মসজিদ নির্মাণের শুরু থেকেই শিডিউলবহির্ভূত নির্মাণকাজ করছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার এন হোসেন শামীম মেহেরপুর গণপূর্ত প্রকৌশলী মোহা. জাকির হোসেনের আত্মীয়। তাঁর যোগসাজশেই তিনি কাজটি পেয়েছেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসু গত ২০ সেপ্টেম্বর মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নানা অনিয়ম দেখতে পান। তিনি কাজের দৃশ্যমান কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি ও অসংগতি উল্লেখ করে শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে নির্দেশও দিয়েছেন। তার পরও শিডিউলবহির্ভূত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। যেভাবে নির্মাণকাজ চলছে তাতে নির্মাণ-পরবর্তী ফ্লোর ফেটে যাওয়াসহ অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কা গণপূর্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলীদের।

গণপূর্তের খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর লিখিত নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্মাণাধীন জেলা সদর মডেল মসজিদের একদিক থেকে কলামের বেইজ ঢালাই করা হচ্ছে, অন্যদিকে একবারে ৮-১০ ফুট উচ্চতার ভেতর মাটি ফেলা হচ্ছে। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ছয় ইঞ্চি লেয়ারে কম্প্যাকশন করার কথা থাকলেও সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। তাতে ফ্লোর ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সব মাটি তুলে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী আবার মাটি ভরাট করে সঠিক নিয়মে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কাজের সাইটে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে যেসব ব্র্যান্ডের রড ব্যবহারের কথা, তা করা হয়নি। শিডিউলে বলা এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে নোটিশে।

নোটিশে আরো উল্লেখ রয়েছে, নির্মাণকাজে ভেতরের মাটি ভরাট ও ক্যাপশন কাজ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী করার জন্য এবং গ্রহণযোগ্য টেস্ট রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করে নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কথা থাকলেও মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ চলছে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে।

সরেজমিনে কাজের সাইডে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের টাইগার নামের রড দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ওই রডের প্রতি কেজির বাজারমূল্য ৪৫ টাকা। অথচ শিডিউলে ৮২ টাকা কেজি দরের বিএসআরএম রড দিতে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। অন্য নির্মাণসামগ্রীও নিম্নমানের দেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ঠিকাদার এন হোসেন শামীমকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কর্মরত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা করতেও অপারগতা প্রকাশ করে।

মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. জাকির হোসেন জানান, বিভাগীয় প্রকৌশলীর নির্দেশে কাজ তদারকি করা হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। টাইগার রড অপসারণ করে আনোয়ার কম্পানির রড সংযোজন করা হয়েছে। মাটি কম্প্যাকশন সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে ১২টি গর্ত করা হয়েছে। একেকটি গর্ত থেকে দেড় হাজার সিএফটি মাটি ওঠানো হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ভরাটের কাজটি ওভাবেই করতে হয়েছে। ঠিকাদার শামীম তাঁর আত্মীয় নন বলে তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বলেন, ‘মেহেরপুর জেলা সদরে মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। এই কাজে কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। বিভাগীয় খুলনা গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন। তিনি মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন শিডিউল মোতাবেক কাজটি দেখভাল করে বুঝে নেওয়ার।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা