kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

উজিরপুরে সন্ধ্যায় বিলীন প্রাথমিক বিদ্যালয়

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



উজিরপুরে সন্ধ্যায় বিলীন প্রাথমিক বিদ্যালয়

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার আশোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টারটি সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। (ইনসেটে) বিলীন হওয়ার আগে বিদ্যালয়টি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার আশোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সন্ধ্যা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনটি রক্ষার জন্য এলাকাবাসী বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পারেনি। তিন মাস আগে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম ওই ভবন এলাকা পরিদর্শন করেন। তখন ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অস্থায়ী প্রকল্পের মাধ্যমে চার হাজার ৩০০ বস্তা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিডরের পর ভাঙনকবলিত আশোয়ার গ্রামের মানুষের আশ্রয়ের জন্য ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর করাল গ্রাসে হানুয়া ও আশোয়ার গ্রামের প্রায় দুই শ পরিবার ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুই বছরের অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি। কয়েক দিন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যায়লটি রক্ষার জন্য মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোসলেম আলী হাওলাদার বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে চোখের সামনে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের ভেতরের মালামালগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকার মানুষ কিছু উদ্ধার করলেও ভবনটি রক্ষা করতে পারেনি।’ আশোয়ার গ্রামের স্থানীয় নাজিম খলিফা, আবুল হোসেন ফকির, জহির হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য জিও ব্যাগগুলো ভাঙনকবলিত স্থানে না ফেলে কোনোমতে দায়সাড়াভাবে মাটির ওপরে ফেলার কারণে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা যায়নি।’ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, ‘ভবনটির কিছু অংশ এখনো আছে। আগামীকাল পর্যন্ত যতটুকু থাকবে তা নিলামে বিক্রয় করা হবে। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ীভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা