kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিরাজগঞ্জ

এক রোগীর রক্ত পরীক্ষা, ভিন্ন ফল

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এক রোগী ও তাঁর স্বজনরা। দুটি প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজি পরীক্ষায় ভিন্ন ফল মিলেছে।

প্রতিষ্ঠান দুটি হলো সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা সদরের তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এবং এনায়েতপুর থানার খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক থেকে প্যাথলজি পরীক্ষায় প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে রোগীর ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগের। অন্যদিকে মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, রোগী ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত নয়।

এখন রোগী মো. আমিরুল ইসলাম (২২) ও তাঁর অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে, কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন সঠিক। রোগী আমিরুল ইসলাম বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক বিভাগে চাকরি করেন।

প্যাথলজি প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর উল্লাপাড়া শ্যামলীপাড়ায় অবস্থিত তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নাগরৌহা গ্রামের মো. আমিরুল ইসলামের গায়ে জ্বর আসায় তাঁর রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়। এ কারণে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয় করা হয়েছে। তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক থেকে দেওয়া প্রতিবেদন দেখে উল্লাপাড়া সদর ৩০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ হোসেন তালুকদার রোগীকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেন।

এদিকে পরের দিন ৭ অক্টোবর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে রোগী আমিরুল ইসলামের রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করানো হয়। এ হাসপাতাল থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রোগী ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের মালিক মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে ডিভাইসের কারণে দেওয়া প্রতিবেদন সঠিক নাও হতে পারে।

এদিকে প্রতিবেদনে ক্লিনিকটির মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (প্যাথ.) আব্দুর রহিমের নাম ও স্বাক্ষর থাকলেও মালিকের উপস্থিতিতে তিনি এ ধরনের কোনো প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেননি বলে জানান।

উল্লাপাড়া সদর ৩০ শয্যার সরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন তালুকদার জানান, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগ একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কোনটি সঠিক আর কোনটি সঠিক নয়—তা বলা কঠিন। তবে দুটির মধ্যে যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন সঠিক হবে। এ ছাড়া তিনি তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক থেকে দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রোগীকে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সিহাব উদ্দিন জানান, বিষয়টি তিনি জরুরিভাবে তদন্ত করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা