kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ক্রিকেট জুয়ায় সর্বস্বান্ত

পার্বতীপুরে বাজির জেরে দুজন নিহত

আবদুল কাদির, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রিকেট বিশ্বব্যাপী এখন জনপ্রিয় খেলা। এই খেলাকে কেন্দ্র করে ফিক্সিং হয়, খেলোয়াড় কেনাবেচা হয়, অর্থ লেনদেনে প্রতিপক্ষের দাপুটে খেলোয়াড়কে বশে এনে খেলায় জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা হয়। এই খেলা নিয়ে দেশে দেশে চলে বড় অঙ্কের জুয়া, ধরা হয় বাজি। সর্বনাশা এই ক্রিকেট জুয়া চলছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।

এদিকে বারবার বাজিতে হেরে পার্বতীপুর নতুন বাজারের মীম গার্মেন্টের পরিচালক তরুণ কাপড় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা (২৮) গলায় দড়ি দিয়ে ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট আত্মহত্যা করেন। বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম চাঁদ আলী জানান, জুয়েল নিয়মিত ক্রিকেট খেলায় বাজি ধরতেন। সর্বশেষ আইপিএলে মোটা অঙ্কের টাকা জুয়ায় হেরে পাওনাদারদের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেন। বাজির টাকা লেনদেনের জের ধরে ২০১৫ সালের ৩ মে উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দোলাপাড়া গ্রামের নবাব আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম (২০) নামের এক মাদরাসাছাত্র সহপাঠীর ব্যাটের আঘাতে নিহত হন।

জানা যায়, পার্বতীপুর শহর ও বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্রিকেট জুয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিভিন্ন বয়স ও পেশার অন্তত ৭০ জন মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছে ফেরিওয়ালা, হোটেল শ্রমিক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কারিগর, জুয়েলারি দোকানি, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং স্কুল ও কলেজছাত্র।

উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ভোটগাছ গ্রামের আলতাফ হোসেন একজন ফেরিওয়ালা। ক্রিকেট বাজিতে হেরে প্রতিপক্ষের পাওনা প্রতিশোধ করতে না পেরে তিনি এখন গ্রামছাড়া। তা ছাড়া দোকান কর্মচারী আসিফ ও শাহজাহান, কাপড় ব্যবসায়ী রিপন, মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কারিগর সুমন, হোটেল শ্রমিক জাহাঙ্গীর, রতন, ফারুক, রোকন, হৃদয়, মিঠুন ও জুয়েল পার্বতীপুরের দক্ষ বাজিকর। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাওনাদারদের বাজির টাকা দিতে না পেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে গাঢাকা দেয়।

সূত্র মতে, পার্বতীপুর শহরের দুটি প্রসিদ্ধ হোটেলের রাতের শিফটে যেসব শ্রমিক কাজ করে, তাদের বেশির ভাগই ক্রিকেট বাজির সঙ্গে জড়িত। ক্রিকেট বাজির কারণে এসব শ্রমিকের প্রায় সবার সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকছে। খেলায় মধ্যস্থতাকারীর একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। যারা বাজি খেলে তারা বাজি ধরে মধ্যস্থতাকারীর নামে টাকা পাঠিয়ে দেয়। মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিটি উভয় পক্ষেরই বিশ্বস্ত। যে জুয়াড়ি বাজিতে জয়লাভ করে, মধ্যস্থতাকারী বা দালাল তার কমিশন রেখে বাকি টাকা বাজিকরকে দিয়ে দেয়।

সূত্র জানায়, স্থানীয় টি-২০, বিপিএল, আইপিএল, সিপিএল, বিগ-ব্যাশসহ সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখানকার বাজিকররা অংশ নিয়ে থাকে। বাজিতে ১০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার এমনকি এক লাখ টাকাও ধরা হয়। বাজি ধরা হয় বলে বলে, রানে রানে, ওভারে ওভারে এমনকি ইনিংসে। ক্লাব, হাট-বাজারে জুয়া খেলার মতো ক্রিকেট জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের সর্বস্বান্ত হওয়ার কথা জানা যায়। কিন্তু অন্য সব জুয়াড়িকে আটক বা গ্রেপ্তার যতটা সহজ, ক্রিকেট জুয়াড়িদের গ্রেপ্তার ততটা সহজ নয়। প্রযুক্তিনির্ভর (মোবাইল) হওয়ায় এ জুয়াও বন্ধ করা সহজ নয় বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে ক্রিকেট বাজিতে হেরে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে।

বাজি প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘ক্রিকেট জুয়া সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। অপরাধীদের অপরাধ দৃশ্যমান না হওয়ায় তাদের আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না।’ তবে লেনদেনে সমস্যা হলে, হৈচৈ হলে কিংবা দুই পক্ষে বিরোধের জের ধরে মারধরের ঘটনা ঘটলে প্রচলিত আইনে গ্রেপ্তার করা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা