kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

চাটমোহর

প্রতিবন্ধীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন ইউপি সদস্য

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নূর বাহার আলী (৭০)। পাবনার চাটমোহরের নিমাইচরা ইউনিয়নের সমাজ মিয়াপাড়া এলাকার এ ব্যক্তি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তাই দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার আশ্বাসে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য পরী খাতুনের বিরুদ্ধে।

বাহার আলী জানান, স্ত্রী আর একমাত্র ছেলে হামিদ আলীকে নিয়ে তাঁর সংসার। ছেলে জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। বাধ্য হয়ে সারা দিন অন্যের দুয়ারে হাত পেতে যা পান তা দিয়েই চাল-ডাল কিনে খেয়ে বেঁচে আছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘শুনেছি সরকার থেকে প্রতিবন্ধী, বয়স্কদের ভাতার কার্ড দেওয়া হয়। সেই কার্ড নিতে দুই বছর আগে আমাদের এলাকার ইউপি সদস্য পরী খাতুনের কাছে যাই। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী কার্ডের পরিমাণ খুব সীমিত। তাই কার্ড পেতে হলে টাকা লাগবে।’ পরে আমি তাঁকে চার হাজার ৫০০ টাকা দিই। (তাঁকে) টাকা দেওয়ার বিষয়টি আমার স্ত্রীসহ এলাকার অনেকেই জানে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আমাকে কোনো কার্ড করে দেননি তিনি। টাকাটা ফেরত চাইলেও দিচ্ছেন না।’’

এ বিষয়ে নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ এইচ এম কামরুজ্জামান খোকন বলেন, ‘সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পরীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। আমি আমার ইউনিয়নবাসীকে বলেছি, তাঁর সঙ্গে কেউ যেন কোনো টাকা লেনদেন না করে। আমি অবশ্যই তাঁকে (বাহার আলী) প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য পরী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী কার্ডের স্বল্পতা থাকায় তাঁর (বাহার আলী) কার্ড করে দিতে দেরি হচ্ছে। আমি তাঁদের একটু ধৈর্য ধরতে বলেছি। এরপরও তাঁরা অধৈর্য হয়ে পড়েছে।’

এ সময় অসহায় ভিক্ষুকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় কথা বলা, দৌড়াদৌড়িতে খরচ আছে। সে জন্যই তাদের থেকে কিছু টাকা আমি নিয়েছি। আর এটা সব ইউপি সদস্যই নিয়ে থাকে।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি যত দ্রুত সম্ভব তাঁর (বাহার আলী) কার্ডের ব্যবস্থা করে দেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা