kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

পার্বতীপুর

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনাজপুরের পার্বতীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল তৈরি করে প্রায় ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন পরে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে জাল দলিল তৈরির ঘটনাটি ধরা পড়েছে।

জানা যায়, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রথম ইউনিটের বগুড়া সেচ খাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ২০০৯ সালে পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন মৌজার জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে খামার জগন্নাথপুর মৌজার সিএস খতিয়ান নং ২৫৫ ও এসএ খতিয়ান নং ৩৩৮ অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ ও ২৫৮ দাগের ১.০৮ একর জমির মধ্যে ৮৭ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ জমির মালিক ওই মৌজার মণ্ডলপাড়া গ্রামের মৃত রহমতুল্লার ছেলে আব্দুর রহমান, আব্দুর রহিম ও আব্দুল করিম এবং কন্যা খুড়কি মাই ও হাজেরা মাই।

দিনাজপুর এলএ শাখা থেকে জমির ওয়ারিশদের নামে যখন নোটিশ দেওয়া হয়, সেই নোটিশ রহস্যজনক কারণে তাদের সবাই পায়নি।

এদিকে আব্দুর রহমান, আব্দুর রহিম ও আব্দুল করিমকে ওই জমির দাতা দেখিয়ে আব্দুল করিমের ছেলে আনিছুল হক গ্রহীতা হিসেবে একটি রেজিস্ট্রি দলিল করেন। ওই দলিল মূলে আনিছুল হক উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নামজারি (খারিজ) করেন। সেই মালিকানা সূত্রে আনিছুল হক ওই জমি তাঁর স্ত্রী রেহেনা বানুর নামে দানপত্র দলিলমূলে লিখে দেন। ফলে রেহেনা বানুর নামে অফিস থেকে নামজারি করা হয়। আনিছুল হক স্ত্রীর নামে ওই জমির দলিলপত্রাদি দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখায় দাখিল করলে সেখান থেকে অধিগ্রহণকৃত ৮৭ শতকের মূল্য বাবদ দুই দফায় ৬৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

জমি অধিগ্রহণের টাকা এককভাবে আনিছুল হকের স্ত্রী উত্তোলন করায় অন্য অংশীদাররা ক্ষুব্ধ হন। ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অংশীদাররা জেলা প্রশাসকের কাছে অংশ বুঝে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন এবং তারা ওই দলিলটি ভুয়া উল্লেখ করে তদন্তের দাবি জানান। বিষয়টি তদন্ত করে দিনাজপুর সদর রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গত ২৭ মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্র্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান ১৯৮৬ সালের ২৫ জুন করা ওই দলিলটি সঠিক নয় উল্লেখ করে আনিছুল হকের স্ত্রী রেহেনা বানুর নামে করা খারিজ বাতিলের আদেশ দেন।  

এ ব্যাপারে মতিয়ার রহমান বাবু বলেন, ‘আমার বাবা ১৯৮৩ সালে মারা যান। অথচ ১৯৮৬ সালে ওই দলিলে আমার বাবাকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া টিপসই দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমার বাবা কোনো দলিলে টিপসই দেননি। কারণ তিনি স্বাক্ষর জানতেন। আমরা প্রকৃত অংশীদাররা আমাদের অংশ ফিরে চাই এবং পার্বতীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জাল দলিল সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ 

অভিযুক্ত রেহেনা বানুর স্বামী আনিছুল হক বলেন, ‘আমার বাবা ওই জমির ক্রয়সূত্রে মালিক। আমি পৈতৃকসূত্রে মালিক। পরে ওই জমি আমার স্ত্রীকে দান করি। আর তাই ওই জমির মালিকানা অন্য কেউ দাবি করতে পারে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা