kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

চাঁদপুর

প্রতিবাদী ৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই মামলা

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবাদী ৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দোকান কর্মচারীর মায়ের সঙ্গে অশ্লীল আচরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আট শিক্ষার্থী এখন উল্টো মামলার আসামি। গ্রেপ্তার আতঙ্কে তাদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনকি চলমান ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে ছবি তুলতে পারেনি তাদের চারজন। মামলার কারণে কয়েকজনের অনার্সে ভর্তি হওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এ নিয়ে অভিভাবকরা সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাঁরা জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর চরদুঃখিয়া বিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী তোফায়েল বেপারীর দোকানে কেনাকাটা করতে আসা মহিলা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা প্রায়ই অশ্লীল আচরণের শিকার হয়। আর এই অপকর্মের নায়ক হচ্ছেন ওই দোকানের কর্মচারী আব্বাছ হাওলাদার, যিনি আবার ওই দোকানির শ্যালক। এ ধরনের আচরণের শিকার হন বিরামপুুর এলাকার জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী রোসনারা বেগম ও টিটু বেপারীর স্ত্রী নাছরিন আক্তার। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১ অক্টোবর তাঁদের সন্তান নাঈম ও রিয়াজ তাদের কয়েকজন বন্ধু নিয়ে ওই দোকানির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নারী ক্রেতাদের উত্ত্যক্তকারী কর্মচারী আব্বাছ হাওলাদার তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করে আটকে রাখেন। এমন সংবাদ পেয়ে স্থানীয় নেছার আহম্মেদ ও সালাউদ্দিন মিঠু ওই শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিয়ে যান।

কিন্তু পরে দোকানের মালিক তোফায়েল বেপারী তাঁর দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে ফরিদগঞ্জ থানায় গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নেছার আহাম্মেদের ছেলে সালাউদ্দিন মিঠু (২৪), আব্দুল মান্নানের ছেলে নাঈম বেপারী (১৯), হোসেন বেপারীর ছেলে রাকিব (১৯), টিটু বেপারীর ছেলে রিয়াজ (১৭), মনির গাজীর ছেলে মাসুম গাজী (১৮), খোকন বেপারীর ছেলে পবন (১৭), আনিছ গাজীর ছেলে আফসার হোসেন (১৬) ও শরিফ গাজীর ছেলে জাফর হোসেন (১৭)। অথচ মামলায় তাদের প্রত্যেকের প্রকৃত বয়সের বেশি দেখানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষার্থীদের মায়েরা আরো অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ী তোফায়েল ও তাঁর লোকজন তাঁদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে তাঁদের সন্তানদের বিপন্ন হতে যাওয়া শিক্ষাজীবন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নেছার আহম্মদ গাজী, শিক্ষার্থীদের মা ও আত্মীয়দের মধ্যে তানজিনা আক্তার, তাহমিনা আক্তার, শিউলী আক্তার, মনির হোসেন, ঝর্ণা আক্তার, ফাতেমা বেগম, হাছিনা বেগম, জেসমিন আক্তার, ব্যবসায়ী, আব্দুর রশিদ, আলাউদ্দীন, পেয়ারা বেগম, জান্নাত আক্তার, জেসমিন আক্তার, আকলিমা বেগম প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা