kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে কোণঠাসা ভৈরববাসী

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দিন দিন বেড়েই চলছে কিশোর অপরাধের মাত্রা। প্রতিদিনই ঘটছে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। নগরবাসীর বর্তমান আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছিনতাই। শুধু রাতের আঁধারেই নয়, দিনের আলোতেও শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ঘটছে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা। নিরীহ জনগণের পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী-চাকরিজীবী কেউ বাদ পড়ছে না ছিনতাইকারীদের কবল থেকে। গত কয়েক মাসে কমপক্ষে ৩০০ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের মুখে গুরুতর আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। সবমিলিয়ে বর্তমানে এ অঞ্চলে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষ। তাই এ সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রশাসনের কার্যকর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভৈরব উপজেলায় উঠতি বয়সের তরুণদের বেশ কয়েকটি ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা বেশির ভাগই ১৫-২০ বছর বয়সের। ইদানীং বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়া ছিনতাইকারীদের অনেকেই এ পেশায় নতুন। ছিনতাইয়ের উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলোর মধ্যে রেলস্টেশন সড়ক, পলাশের মোড়, নিউটাউন, টোলপ্লাজা, মনমড়া ব্রিজ, নতুন রেলসেতু, বঙ্গবন্ধু সরণি, আমলাপাড়া ও স্টেডিয়াম রোড অন্যতম। প্রায় ৮-১০টি ছিনতাইকারীচক্রের অপতৎপরতায় বর্তমানে এসব এলাকা সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা নীরব ও জনশূন্য হয়ে পড়ে। শুধু রাতেই না, প্রকাশ্য দিবালোকেও উল্লিখিত এলাকাগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

এসব এলাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী পথচারীরা জানায়, ব্যাবসায়িক কাজকর্ম শেষে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়। কিন্তু ছিনতাইকারীদের ভয়ে তারা চরম আতঙ্কে থাকে। জানমালের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এরপরেও বাধ্য হয়েই রাত-বেরাতে যাতায়াত করতে হয়। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ছিনতাই দমনে প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানায় তারা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ভয়ংকর ছিনতাইকারীর নাম। তাদের মধ্যে ভৈরব উত্তরপাড়া এলাকার রূপক, অপু, বেগ গিয়ার হৃদয়, মো. আলী, কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাহমুদুল হাসান জয়, আমিনুল হক, গাছতলাঘাট এলাকার নূর মোহাম্মদ ওরফে ইমন ও উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের আব্দুল্লাহ অন্যতম। এসব চিহ্নিত ছিনতাইকারীর নিয়ন্ত্রণেই চলছে বেশ কয়েকটি চক্র। তাদের বিরুদ্ধে ভৈরবসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন থানায় ছিনতাইসহ মাদক, ডাকাতি ও খুনের মামলাও রয়েছে।

ভৈরবের সামাজিক অবক্ষয়ে তরুণ প্রজন্মের এই বেহাল হওয়ার কারণ হিসেবে মাদকের সহজলভ্যতাকে দোষছে স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছে, মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে মাদকের টাকার জোগান দিতেই তরুণ প্রজন্ম চুরি-ছিনতাইয়ে নিজেদের সম্পৃক্ত করে ফেলছে।

এ ব্যাপারে কথা হয় ভৈরব থানার ওসি মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে। সম্প্রতি এ অঞ্চলে ছিনতাইকারীদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে স্বীকার করে তিনি জানান, অন্যান্য জেলা-উপজেলার তুলনায় ভৈরবে সব ধরনের যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধজনক হওয়ায় মাদককারবারিরা ভৈরবকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তবে বিগত দিনের তুলনায় বর্তমানে ভৈরবে মাদকের ব্যবহার অনেকাংশে কমে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাদকমুক্ত ভৈরব গড়তে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের দমনেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ছয় মাসে দুই শতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বোপরি এ সামাজিক অবক্ষয়ের পরিবর্তন ঘটাতে পুলিশি তৎপরতা আরো জোরদার করা হবে জানিয়ে ছিনতাই দমনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা