kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

২০ দিনেও কর্মক্ষেত্রে যোগ দেননি ছয় চিকিৎসক

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানে সম্প্রতি বলেছেন, ‘ডাক্তারদের যেখানে বদলি করা হবে তাঁরা যদি সেখানে কাজ না করেন, তাহলে তাঁদের ওএসডি করে রেখে দিতে হবে। তাঁদের দরকার নেই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন হুঁশিয়ারির পরও তাঁর নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলির পর কাজে যোগ দেননি ছয়জন চিকিৎসক। বিষয়টি জানার পর অনেকেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি পদের অনুকূলে বর্তমানে চিকিৎসক আছেন মাত্র তিনজন। চিকিৎসক সংকট দূর করতে গত ২৯ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ডা. শরাফাত হোসাইন, ডা. আবু দাউদ খান ও ডা. রেজাউল করিমকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করা হয়। অন্যদিকে একই তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ডা. সাকীফ মাহরিয়ার, ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন, ডা. আহসান কবির ও ডা. ছাইয়োদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহকে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করা হয়। বদলি এই সাত চিকিৎসককে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাতজনের মধ্যে শুধু ডা. ছাইয়োদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন। বাকি ছয়জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে গত ২০ দিনেও কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত বৈদ্য বলেন, ‘শুধু ডা. ছাইয়োদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ যোগদান করেছেন। বাকি ছয় চিকিৎসক এখানে যোগদান করেননি। বিষয়টি আমি গত ১২ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছি।’

যোগদান করা ডা. ছাইয়োদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের পর দেখলাম প্রতিদিন আউটডোরে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী আসে। আমরা যে কয়েকজন চিকিৎসক এখানে আছি, তাদের পক্ষে এতগুলো রোগী দেখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ 

ডহরপাড়া গ্রামের রফিকুর ইসলাম পটু বলেন, ‘এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার জন্য মাত্র তিনজন ডাক্তার আছেন। তাই এখানে জরুরিভাবে ডাক্তার প্রয়োজন।’

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. তরুণ মণ্ডল বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কথা বলেছি। বদলি হওয়া ডাক্তারদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগদান করতেই হবে। যদি তারা এখানে যোগদান না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা