kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কিন্ডারগার্টেনে ঝুঁকিতে শতবর্ষী প্রাথমিক বিদ্যালয়

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিন্ডারগার্টেনে ঝুঁকিতে শতবর্ষী প্রাথমিক বিদ্যালয়

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে ‘ফুলকলি কিন্ডারগার্টেন’। ইনসেটে ফুলকলি কিন্ডারগার্টেনের সামনের অংশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে শতবর্ষ অতিক্রম করা ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘ফুলকলি কিন্ডারগার্টেন’ নামের একটি স্কুল। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কিন্ডারগার্ডেন স্কুল নির্মাণে বিধি-নিষেধ থাকলেও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় বিলুপ্তির পথে! এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে অবহিত করলেও নেওয়া হয়নি যথাযথ কোনো পদক্ষেপ।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছলিমপুর মধ্যপাড়া গ্রামে ১৯১৭ সালে স্থানীয় সমাজসেবকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যাত্রার শুরু থেকেই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কখনো দুই শতাধিকের নিচে নামেনি। একজন প্রধান শিক্ষক ও পাঁচজন সহকারী শিক্ষক এলাকার কোমলমতি শিশুদের স্কুলগামী করতে এবং এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। এ বছরের শুরুর দিকে ওই বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষেই নির্মাণ করা হয় ফুলকলি কিন্ডারগার্টেন নামের স্কুলটি। এতে দুই শতাধিকের স্থলে ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। যদিও বিধি মোতাবেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটার ভেতর কোনো কিন্ডারগার্ডেন নির্মাণের নিয়ম নেই। তবু স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বাণিজ্যিক ভাবনা নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষেই এই কিন্ডারগার্টেন নির্মাণ করেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিও কিন্ডারগার্টেনের মাঠ দিয়ে। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা বিব্রতকর পরিবেশের সম্মুখীন হলেও ফুলকলি কিন্ডারগার্টেন পরিচালনাকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না।

এ ব্যাপারে কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক খোকন বলেন, ‘আমি স্কুল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরেই একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি। ওই প্রতিষ্ঠানের শাখা হিসেবে স্থানীয়রা স্কুলের পাশেই কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করছে। নিয়ম না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে এটি স্থানান্তর করে নেব।’ ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা করার সময় আমরা বাধা দিয়েছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করেছি।’

এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল জাকির বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেনের পরিচালককে ডেকে এরই মধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। যদি স্থানান্তর না করেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটারের ভেতর কোনো কিন্ডারগার্ডেন নির্মাণ আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষেধ। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা