kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাঁচ উপজেলায় নামজারি বন্ধ

রাজশাহীতে এসি ল্যান্ড না থাকায় এই জটিলতা

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে জমির নামজারি করতে প্রায় চার মাস আগে আবেদন করেন খালেদা খাতুন নামের এক নারী। নামজারির সব প্রক্রিয়া শেষ। এখন রয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অনুমোদনের ধাপটি। কিন্তু কাজটি হচ্ছে না। কারণ এখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেই। গত আট মাস ধরে এখানকার এসিল্যান্ড পদ শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিদিন জমির নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, পরচা উত্তোলনসহ নানাকাজে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সেবাগ্রহীতারা এসে ঘুরে যাচ্ছে। এতে বাড়ছে জনহয়রানি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু পুঠিয়াতেই নয়, এসি ল্যান্ড পদটি শূন্য থাকায় জমির নানাকাজে এসে প্রতিদিন ঘুরে যেতে হচ্ছে জেলার আরো চার উপজেলার শত শত মানুষকে। উপজেলাগুলো হলো মোহনপুর, তানোর, বাগমারা ও দুর্গাপুর। সব মিলিয়ে জেলার পাঁচটি উপজেলায় এসিল্যান্ড পদ শূন্য।

পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে এসি ল্যান্ড পদটি শূন্য থাকলেও সেই দায়িত্ব পালন করছিলেন ইউএনও ওলিউজ্জামান। কিন্তু তিনিও গত ১০ দিন ধরে ছুটিতে আছেন। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে পুঠিয়ার বাসিন্দারা।

জানতে চাইলে জায়দুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘পাঁচ মাস আগে একটি নামজারির (খারিজ) আবেদন করেছি। কিন্তু এসি ল্যান্ড না থাকায় হচ্ছে না। ইউএনও দায়িত্বে থাকলেও শুনেছি, তিনিও ঠিকমতো জমির কাজগুলো করেন না। অন্য কাজ করতে করতেই নাকি সময় শেষ হয়ে যায় তাঁর। ফলে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছি। কোনো উপায় পাচ্ছি না।’

এদিকে জেলার দুর্গাপুরে এসিলান্ডের দায়িত্বে রয়েছেন বাঘার এসিল্যান্ড আল্পনা ইয়াসমিন। দুর্গাপুরের ইউএনওকে রেখে বাঘার এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি এক দিনও দুর্গাপুরে গিয়ে অফিস করেননি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আবার দুর্গাপুরের ইউএনও বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন চারঘাটের ইউএনও নাজমুল হক। এই উপজেলা ভূমি অফিসে গতকাল জমির পরচা তুলতে যান জুগিশো গ্রামের আকবর আলী। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় তাঁকে ফিরে যেতে হয়। কবে নাগাদ এসিল্যান্ড অফিস করবেন বা যোগদান করবেন সেটিও ভূমি অফিসের কেউ তাঁকে বলতে পারেনি। আকবর আলী বলেন, ‘প্রায় তিন মাস ধরে ঘুরছি এই পরচার জন্য। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এসিল্যান্ড নাই, এসিল্যান্ড নাই শুনতে শুনতে অধৈর্য হয়ে পড়েছি। এভাবে আর কত দিন ঘুরব একটি কাগজের জন্য?’

জানা গেছে, দুর্গাপুরে সর্বশেষ এসিল্যান্ড ছিলেন সমরেশ মজুমদার। তিনি গত জানুয়ারি মাসে বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে এ উপজেলায় এসিল্যান্ড শূন্য হয়। তাঁর স্থলে প্রথমদিকে চারঘাটের এসিল্যান্ডকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি দুই-এক দিন অফিস করে আর দুর্গাপুরে যাননি। এরপর সম্প্রতি বাঘার এসিল্যান্ড আল্পনা খাতুনকে দুর্গাপুরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে দুর্গাপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, ‘আমি অল্প কয়েক দিনের জন্য দায়িত্বে আছি। কাজেই এসিল্যান্ড না থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে কি না—বলতে পারব না।’

জেলার মোহনপুরেও এসিল্যান্ড পদটি শূন্য বছরখানেক ধরে। এখানে পবা উপজেলা ভূমি অফিসের এসিল্যান্ড নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাস অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনিও সময় দিতে পারেন না মোহনপুরে। ফলে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাস বলেন, ‘জেলার বাগমারার এসিল্যান্ড পদটি শূন্য প্রায় চার মাস ধরে। এর আগে মাস দুয়েকের জন্য একজন এসিল্যান্ড ছিলেন। এর আগেও দীর্ঘদিন পদটি শূন্য ছিল। এতে করে এখানকার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ব্যাপকহারে।’

একই অবস্থা বিরাজ করছে জেলার তানোরেও। এখানেও প্রায় চার মাস ধরে এসিল্যান্ড পদটি শূন্য হয়ে আছে। এখানে দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও নাসরিন বানু। তবে তাঁর আগে এই দায়িত্বে ছিলেন গোদাগাড়ীর ইউএনও। তানোরের ইউএনও নাসরিন বানু বলেন, ‘সাধারণ মানুষের হয়রানি রোধে আমি কাজ করে যাচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা