kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বীরগঞ্জের ভুল্লী নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বীরগঞ্জের ভুল্লী নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ভুল্লী নদীতে আড়াআড়িভাবে বেড়া দিয়ে অবাধে চলছে মাছ শিকার। ছবিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝাড়বাড়ী মহাবিদ্যালয়ের কাছ থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভুল্লী নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশ ও জালের বেড়া দিয়ে অবাধে মাছ শিকার চলছে। এতে মা মাছ, পোনাসহ সব ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। এভাবে মাছ ধরায় যেমন বিপাকে পড়েছে সাধারণ জেলেরা, তেমনি খাঁচায় আটকে মাছের পাশাপাশি ব্যাঙ, সাপ, কুঁচিয়াসহ জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, নদীজুড়ে এভাবে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করা অবৈধ। এরপরও প্রায় এক মাস ধরে এভাবে মাছ ধরা হচ্ছে অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। নদীতে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করায় দেশি মাছের পোনাও ধ্বংস হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঝাড়বাড়ী মহাবিদ্যালয় কলেজ মোড় সেতুর আশপাশে একাধিক স্থানে এপার থেকে ওপার অবধি বাঁশ ও জাল দিয়ে আড়াআড়িভাবে বেড়া দেওয়া হয়েছে। একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৩০০ ফুট। বেড়ার সঙ্গে ছোট ফাঁসওয়ালা জাল পানির ওপর থেকে শুরু করে মাটি পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নদীর বুকে বেড়ার মাঝে মাঝে চটকা জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে শতগ্রাম ইউনিয়নের ঘোশিবাড়ী গ্রামের হবিবর রহমান হবির পরিবারের নেতৃত্বে অন্তত ২৫ জন জেলে। এলাকাবাসী জানায়, সেই বাঁশের বেড়ার ওপরের অংশে রাতের বেলা অবৈধ কারেন্ট সুতার জাল দেওয়া হয়। এতে বাঁশের তৈরি বানার সঙ্গে পানির স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়ে দাড়কিতে ধরা পড়ছে ছোট-বড় নানা প্রজাতি ডিমওয়ালা দেশীয় প্রজাতির মাছ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখন বর্ষা চলছে। এ সময় দেশীয় প্রজাতির মাছ বংশ বিস্তার করে। যেভাবে বাঁশের বাঁধ দিয়ে দাড়কি-ধিয়াল এবং কারেন্ট জাল ফেলে মাছ ধরা হচ্ছে—এতে দেশীয় মাছগুলো উন্মুক্তভাবে বিস্তার লাভ করতে পারছে না। ফলে নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শিং, মাগুর, টেংরা, বোয়াল, পাবদা, পুঁটি, কই, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ।

এ বিষয়ে হবিবর রহমান হবি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এভাবেই নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু এভাবে মাছ ধরা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ তা জানতাম না। এ কারণে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতিও নেওয়া হয়নি।’ বীরগঞ্জ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা অশিম কুমার ঘোষ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না।’ তবে কারা মাছ শিকার করছে—জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ‘বেড়া অপসারণ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা