kalerkantho

বুধবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২ ডিসেম্বর ২০২০। ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

পঞ্চগড়

এক পরিবারের ১০ জনকে অচেতন করে চুরি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পঞ্চগড়ে একই পরিবারের ১০ জনকে অচেতন করে এক লাখ টাকাসহ পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে ঘুমে অচেতন একই পরিবারের ১০ নারী, পুরুষ ও শিশুকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে জেলা সদরের আহমদনগর তেলিপাড়া এলাকায় অভিনব কায়দায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। খাবারের সঙ্গে চেনতনানাশক খাইয়ে এই চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আহমদনগর তেলিপাড়া এলাকার মোছলেম উদ্দিনের বাড়িতে শুক্রবার রাতে তাঁর বাবা আলিমদ্দিনের কুলখানি ও দোয়ার অনুষ্ঠান ছিল। এ জন্য বাড়িতে আলিমদ্দিনের মেয়ে জামাইয়ের পরিবারের সদস্যরা ছিল। দোয়া অনুষ্ঠান শেষে রাতে খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। শনিবার সকাল ৮টায় মোছলেম উদ্দিন ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাড়ির সবাই ঘুমাচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি দেখতে পান বাড়ির সব ঘরের দরজা ভাঙা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তিনি তাঁর মা রেজিয়া বেগম (৫৫), বোন মুন্নি আক্তার (৩৫), স্বপ্না বেগম (৩২), রত্না বেগম (৩১), ভাগিনা মৃদুল (২১), সায়েম (১৩), খালা রাশিদা বেগম (৬০), ভাগ্নি সামিরা খাতুন (৫), অনন্যা (৩) এবং ভাতিজা মাহিনকে (৫) পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এর আগেও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার একই কায়দায় চুরি হয়েছে। দিন দিন এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ভুক্তভোগী মোছলেম উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার সকালে উঠে দেখি বাড়ির সকলেই ঘুমোচ্ছে। ঘরের দরজা-জানালা ভাঙা। কিভাবে কী হলো বুঝতে পারছি না। পরে আমি প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করি।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সিরাজউদ্দৌলা পলিন বলেন, ‘মনে হচ্ছে ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু তাদের খাওয়ানো হয়েছে। এখন তারা শঙ্কামুক্ত। তবে পুরোপুরি ঘোর কাটতে কারো কারো ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে।’

পঞ্চগড় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি চুরির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা