kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

গাইবান্ধায় থেমে আছে চার লেনের কাজ

যানজটে নাকাল শহরবাসী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধায় থেমে আছে চার লেনের কাজ

গাইবান্ধা শহরের প্রধান সড়ক ডিবি রোডে যানজটের এমন চিত্র প্রতিদিনের। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের পলাশবাড়ী থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে গাইবান্ধা শহর। সেখানে যাওয়ার জন্য বাইপাস সড়ক না থাকায় এবং গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়ক ও ডিবি রোডটি অপ্রশস্ত হওয়ায় জেলা শহরে তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ডিবি রোডকে চার লেনে উন্নীত এবং গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়ককে প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

সওজ সূত্র জানায়, মানুষের দাবির মুখে যানজট দূর করাসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৫৭ কোটি টাকা। পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের চার মাথা থেকে জেলা শহরের পুরনো জেলখানা মোড় পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়ক এ প্রকল্পের আওতায় আসে। এর মধ্যে পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের চারমাথা থেকে গাইবান্ধা শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত সাড়ে ১৮ কিলোমিটার সড়ক ১৮-২৪ ফুট প্রশস্ত করা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শহরের পুরনো জেলখানা মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। চার লেন অংশ ১৮-৪২ ফুট প্রশস্ত করা হবে। এর মধ্যে সড়কের মাঝখানে নির্মিত হবে ছয় ফুট প্রশস্ত ডিভাইডার। সড়কের পাশে থাকবে ড্রেন।

২০১৭ সালে প্রকল্পটি একনেকের বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে কাজ শুরুর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ দেওয়ার পর থেকে দেড় বছরের মধ্যে চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর অগ্রগতি হয়নি।

সওজের দাবি, অর্থের কারণেই কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রথমে এ প্রকল্পের ব্যয় ১৫৭ কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমানে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আড়াই কিলোমিটার অংশেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ২৭৯ কোটি টাকা। তাই প্রকল্পটি সংশোধন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার লেনের আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে এক কিলোমিটার গাইবান্ধা শহরের ১ নম্বর রেলগেট থেকে পুরনো জেলখানা এবং দেড় কিলোমিটার ১ নম্বর রেলগেট থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত। এক কিলোমিটার অংশের দুই পাশের জমি অধিগ্রহণের ৫৪ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। তারা তালিকা তৈরি করেছে। তবে দেড় কিলোমিটার অংশের কয়েকজন জমির মালিক ২০০২ সালে মামলা করায় তা বিচারাধীন। একটি মামলার রায় হয়েছে, অন্য দুটির রায় আগামী সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিক গোবিন্দলাল দাস বলেন, গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়ক, গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-সাঘাটা সড়কসহ সব পথের যানবাহন মূলত শহরের ডিবি রোড দিয়েই যাতায়াত করে। ঢাকা কিংবা রংপুর যাওয়ার জন্যও এটি অপরিহার্য রাস্তা।

জেলা জাতীয় পার্টির নেতা রেজাউন্নবী রাজু বলেন, যানজট নিরসনে প্রায় এক বছর আগে এ সড়কটির আড়াই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করতে কাজ শুরু করার কথা ছিল। কাজের উদ্বোধনও করা হয়েছিল। কিন্তু কী কারণে কাজ থেমে আছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। অথচ জেলা শহরের মানুষের জন্য কাজটি খুবই ফলপ্রসূ হতো।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সাড়ে ১৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর জেলা শহরের আড়াই কিলোমিটার চার লেন সড়কের কাজ একনেকের অনুমোদন পেলেই শুরু হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা