kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

উজিরপুর

মাদকসেবী ধরা বিক্রেতা নয়

ওমর আলী সানি, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হচ্ছে। কোথাও আবার কথিত বন্দুকযুদ্ধে ‘চিহ্নিত মাদক কারবারি’ নিহত হচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। তবে সে হিসাবে বরিশালের উজিরপুরে তেমন কোনো তৎপরতা নেই।

জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে টাকা হলেই মেলে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক। তবে থানা পুলিশ বরাবরই মাদকসেবী গ্রেপ্তারে তৎপর থাকলেও বিক্রেতাদের ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। কারণ বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী জড়িত। একসময় দেশের সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে এ উপজেলায় ফেনসিডিল ঢুকত। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাদকের নতুন সংস্করণ ইয়াবা আসছে। গোটা উপজেলায় এই ইয়াবা এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। শ্রমিক, ব্যবসায়ী, গাড়িচালকদের মধ্যে ইয়াবার ব্যাপক বিস্তার ঘটছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ইয়াবার আসক্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ প্রায় নীরব। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই উজিরপুর পৌরসভার বেলতলার মোড়, লিচুতলা, রাখালতলা নীলখোলা, উত্তর রাখালতলা, কালীরবাজার, উজিরপুর খেয়াঘাট, হাসপাতাল মোড়, ইচলাদী বাসস্ট্যান্ড, সোনার বাংলা, ডাকবাংলো, টেম্পোস্ট্যান্ড, টিঅ্যান্ডটি মোড়, কুমার বাজার, পরমানন্দসাহা ও উপজেলা পরিষদসংলগ্ন এলাকা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া উপজেলার শিকারপুর বন্দর, সানুহার বাসস্ট্যান্ড, জয়শ্রী, আটিপাড়া সুলতানের দোকানসংলগ্ন এলাকা, কালিহাতা, মানিক বাজার, হস্তিশুণ্ড ঈদগাহ মার্কেট, খোলনার মোড়, গড়িয়া নতুন হাট, চৌমহনী বাজার, কাজিরা, ডাবেরকুল, গাজীরপাড়, বড়াকোঠা শেরেবাংলা বাজার, ধামুড়া বন্দর, ওটরা, চেরাগালী মার্কেট, মশাং বাজার, বামরাইল, মোড়াকাঠি, গুঠিয়া বন্দর, নারায়ণপুর বাজার, শোলক, হারতা, মুন্সিরতাল্লুক, জল্লা পীরেরপাড়, কারফা বাজার, সাতলা, নয়াকান্দি, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের মেজর এম এ জলিল সেতুর নিচসহ বিভিন্ন এলাকার ৬০-৭০টি স্পটে মাদক কেনাবেচা চলছে।

এর সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের কোনো না কোনো পর্যায়ের নেতা। তা ছাড়া পৌরসভা এলাকায় বর্তমানে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাহীন ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের প্রশ্রয়ে মাদক কারবারিরা অবাধে ব্যবসা করে চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক মাদক মামলার আসামি পৌর সদরের চিহ্নিত মাদক কারবারি রাব্বি ও তার সহোদর লাভলুর সঙ্গে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। ওই দুই মাদক কারবারিকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশ মাঝেমধ্যে কিছু সেবনকারী গ্রেপ্তার করে। আবার কাউকে আটক করে মোটা অঙ্কের  উৎকাচ নিয়ে ছেড়ে দেয়। ওই দুই ভাই ও তাদের সহযোগী হাসানই মূলত এখন এলাকায় মাদক ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। তা ছাড়া মাদক কারবারি রাব্বি বালী কয়েক মাস আগে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাব্বি আবারও পুরোদমে মাদক ব্যবসা শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে পৌর এলাকার দায়িত্বরত উজিরপুর মডেল থানার এএসআই মহসিন মিয়া এই প্রতিবেদককে জানান, চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রাব্বি ও তার ভাই লাভলু দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। কোনো সময়ই তারা পুলিশের সোর্স ছিল না।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায়ী রাব্বির ছোট ভাই লাভলুকে কয়েক দিন আগে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সে ক্ষেত্রে লাভলুর বড় ভাই রাব্বি পুলিশের সোর্সের কাজ করে, এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা