kalerkantho

মঠবাড়িয়ায় বেড়িবাঁধের গাছ আত্মসাতে প্রভাবশালীরা

উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্প

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় বেড়িবাঁধের দুই পারে সৃজিত চার শতাধিক বনজ গাছ কেটে স্থানীয় প্রভাবশালীরা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ লাগোয়া খাল খননের নামে সংঘবদ্ধ একটি চক্র চার শতাধিক বিভিন্ন বনজ গাছ কেটে পাচার করেছে। এতে বাধা দিলে সৃজিত বৃক্ষের উপকারভোগীদের ওপর হামলা চালান প্রভাবশালীরা। এ ঘটনায় উপজেলা বন বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

এ ঘটনায় উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের হোতখালী গ্রামের উপকারভোগী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে গত মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কের হোতখালী বাজার সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বনায়নের উপকারভোগী ও বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অংশ নেয়।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর অভিযোগ, ২০০০ সালে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় মঠবাড়িয়ার হোতখালী বেড়িবাঁধের দুই পারে ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এ বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় রেইনট্রি, নিম, তুলা, বকুল, গামার ও গর্জন গাছ ২০ বছর ধরে বেড়ে উঠেছে। এলাকার ৫০ জন উকারভোগী গাছগুলো দুই দশক ধরে পরিচর্যা করে আসছেন। সম্প্রতি বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি খাল খননের নামে সংঘবদ্ধ প্রভাবশালীরা জোর করে গাছ কেটে খুলনায় পাচার করেন। ওই সময় দুই উপকারভোগী কমিটির সদস্য হেমায়েত হাওলাদার ও হারুন জমাদ্দার গাছ কাটার প্রতিবাদ জানালে তাঁদের পিটিয়ে আহত করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা বন বিভাগে উপকারভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের হোতখালী খালের প্রায় দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আশপাশজুড়ে কর্তন করা অসংখ্য গাছের গোড়া দেখতে পাওয়া যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন জানায়, স্থানীয় দুই প্রভাবশালী চুন্নু হাওলাদার ও রহমান মালসহ ১৫ জন মিলে গাছ কেটে খুলনায় পাচার করেন।  

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. ফকর উদ্দিন বলেন, ‘এ উপজেলায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সৃজিত উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায়। আমার দপ্তরে জনবল কম থাকায় আমার একার পক্ষে সব দেখভাল করা সম্ভব হয় না। গাছ কাটার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বন ও পরিবেশ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

 

মন্তব্য