kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

থমকে আছে ধুনট-বাগবাটি সড়ক পাকা করার কাজ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বগুড়ার ধুনট থেকে সিরাজগঞ্জের বাগবাটি পর্যন্ত ২০ কিমি সড়ক পাকাকরণের কাজ শেষ না করেই ৯ বছর ধরে ‘উধাও’ হয়ে গেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ফলে ওই রাস্তায় যান চলাচল তো দূরের কথা, মানুষ হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না। এতে প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়কটি পাকাকরণের জন্য দুই দপ্তরের বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম বরাদ্দ ছিল এলজিইডির বগুড়া অঞ্চল থেকে। দ্বিতীয় বরাদ্দ ছিল সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে। পরে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগকে কাজ করার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ২০ কিমি সড়কের মধ্যে ১৪ কিমি অংশ বগুড়ার ধুনট উপজেলার মধ্যে। বাকি ছয় কিমি সড়ক সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার মধ্যে।

এদিকে ২০০৯ সালে এই সড়কের ১২০০ মিটার পাকা করার জন্য এলজিইডি বগুড়া অঞ্চল থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এই দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পায় মেসার্স আর কে অ্যান্ড এইচ এম জয়েন্ট ভেঞ্চার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। পরে ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টম্বর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ ফুট প্রস্থের সড়কটিতে কাজ শুরু করে।

এ অবস্থায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে একই সড়কে প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। দরপত্র অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের আরএস অ্যান্ড জেএস কনস্ট্রাকশনকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। একই সড়কে ডাবল বরাদ্দের বিষয়টি জানতে পেয়ে এলজিইডির ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যান। পরে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাজ শুরু করে মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ করেন। অবশিষ্ট কাজ শেষ না করেই ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কোনো দপ্তর থেকে এই সড়কটির খোঁজখবর নেওয়া হয়নি।

এলজিইডির তৎকালীন ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘প্রথম দফা কার্যাদেশ দিয়ে এলজিইডির ঠিকাদারকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, একই সড়ক নির্মাণের জন্য সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বরাদ্দ দিয়ে অন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এলজিইডির অর্থায়নে কাজ বন্ধ করে বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ আরএস অ্যান্ড জেএস কনস্ট্রাকশনের মালিক আবু ইউসুফ সূর্যের সঙ্গে  মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামন বলেন, ‘বাগবাটি-ধুনট ২০ কিমি সড়ক পাকাকরণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পাওয়া গেছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। আগের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করেই উধাও হয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা