kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

পাটগ্রাম

বিধ্বস্ত সেতু সংস্কার হয়নি তিন বছরেও

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবের ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কের দেওদাপাড়া গ্রামে খালের ওপর সেতুটি বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে এ এলাকার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি তিন বছরেও পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

বিধ্বস্ত সেতুর জায়গায় এখন নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ চলাচল করছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০ জনের মতো আহত হয়েছে।

স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসের বন্যায় সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। অগত্যা এলাকাবাসী চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে। কিন্তু সেটিও এখন নড়বড়ে।

এতে পারাপার হতে গিয়ে মোটরসাইকেল, পথচারী, বাইসাইকেলসহ খালের পানিতে পড়ে অনেকে আহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জগতবের ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ওই ভাঙা সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেকে আহত হয়েছে। সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় এ গ্রামের মানুষজনের কৃষিপণ্য বিক্রয়ের জন্য ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। সেতুর ওপর দিয়ে কোনো পণ্যবোঝাই গাড়ি পারাপার করা যায় না। এপার থেকে ওপারে পণ্য নিতে হলে মাথায় করে নিয়ে যেতে হয়। এতে সময় ও পরিশ্রম বেশি ব্যয় করতে হয়।’

সেতু সংস্কারের ব্যাপারে কলেজছাত্র আব্দুর রহিম বলেন, ‘গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়ে এই ইউনিয়নের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলা সদরের স্কুল, কলেজে লেখাপড়া করে। সেতুটি নির্মাণ না করায় অনেক পথ ঘুরে স্কুল ও  কলেজে যেতে হচ্ছে। ফলে সময় লাগে বেশি। কারণ অটোরিকশা বা ভ্যানগাড়ি সরাসরি চলাচল করতে পারে না। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা সেতু দিয়ে যায়। তবে প্রথম দিকে সাঁকোটি ভালোই ছিল। পরে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়েও গেছে। এই সাঁকোর কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলেও যেতে চায় না।’

এ বিষয়ে জগতবের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবিবর রহমান বলেন, ‘সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দের কাজ প্রক্রিয়াধীন।’    

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘সেতুটি তৈরির জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে। আশা রাখি, সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুতই শুরু করা যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা