kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ঠিকাদার এসি ল্যান্ড

রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিস ও এর আওতাধীন দুটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংস্কারকাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সরকারি নিয়মকে কাগজ-কলমে দেখিয়ে এ কাজ গোপনে সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার, ভূমি (এসিল্যান্ড) সোহাগ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে। ফলে এ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মহলে এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, এসিল্যান্ড সোহাগ চন্দ্র সাহা ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে উপজেলা ভূমি অফিস ও দুটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছেন বলে কাগজ-কলমে দেখিয়েছেন। কিন্তু গোপনে ঠিকাদারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি নিজেই। অন্যদিকে সংস্কারের নামে বাচোর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আরো এক লাখ টাকা অনুদান নিয়েছেন। এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার খায়রুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া শ্রমিকদের বেতন এসিল্যান্ড অফিসের নাজির পরিশোধ করেছেন বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন।

এদিকে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছুটা অস্বচ্ছতারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও জেলার নিয়মিত ঠিকাদাররা এ কাজের দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের বিষয়ে কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে রানীশংকৈল উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘এ কাজের যে কখন দরপত্র আহ্বান করা হলো, তা আমরা জানি না।’ 

সংস্কারকাজ করা দুটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি ধর্মগড়-কাশিপুর ইউপির উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এটা কোন বরাদ্দ থেকে হয়েছে, জানি না। এসিল্যান্ড স্যার আমার অফিসের পিয়ন দিয়ে দেখাশোনা করিয়ে অফিসের দরজা-জানালার কাজ করিয়ে নিয়েছেন। এর বাইরে কিছুই জানি না। এখানে কোনো ঠিকাদার কিংবা কোনো প্রকৌশলীকে কখনো আসতে দেখেনি।’

আরেকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস বাচোর ইউপির উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা রহমত আলী বলেন, ‘কাজটি কিভাবে হলো তা জানি না। একদিন দেখলাম ইট সিমেন্ট বালু নিয়ে এসে এসিল্যান্ড রাজমিস্ত্রি দিয়ে আমার অফিসের ডান দিকে প্রাচীর নির্মাণ করে দিলেন। এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারব না।’

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়মে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিসের ফ্রন্ট ডেস্ক নির্মাণ ও দুটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংস্কার বাবদ পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ করা হয়েছে।

তবে দরপত্র আহ্বান বা কার্যাদেশ প্রদানের সময় ও তারিখ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ করার বিধান থাকলেও এসিল্যান্ড মহোদয় নামেমাত্র ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নিজের তত্ত্বাবধানে কাজটি করেছেন। কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি ও মালপত্র কেনার টাকা অফিসের লোক দিয়েই পরিশোধ করা হয়েছে।

নির্মাণকাজের রাজমিস্ত্রি আমির আলী বলেন, ‘এ কাজের ঠিকাদার আছে। কিন্তু তাকে আমি কখনো দেখিনি। আমাকে ভূমি অফিসের নাজির টাকা পরিশোধ করেছেন।’

বাচোর ইউপি চেয়ারম্যান জিতেন্দ্র নাথ জানান, অফিস সংস্কারের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা অনুদান নিয়েছেন এসিল্যান্ড সোহাগ।

এ ব্যাপারে এসিল্যান্ড সোহাগ চন্দ্র সাহা গতকাল বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে নিজে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি দরপত্রের কাজের চেয়েও অতিরিক্ত কাজ করেছি। তাই অনুদানও নিয়েছি। আপনারা এসে দেখে যান।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা