kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

যোগসাজশের দরপত্র

সিরাজগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগির খামার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরাজগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগির খামারে টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন সিরাজগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগির খামারে খাদ্য সরবরাহের জন্য দুটি গ্রুপে টেন্ডার আহ্বান করে খামার কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুটি গ্রুপে ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। কিন্তু টেন্ডারের শর্ত ভঙ্গ করে খামারের ব্যবস্থাপক ও টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক পছন্দের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দেওয়ান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোং ও মো. নূরুল ইসলামকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এরই মধ্যে তাইম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী টেন্ডারে অনিয়মের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ চারজনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। 

টেন্ডার শিট থেকে জানা যায়, টেন্ডার আইডি নম্বর ৩৩৬৪৯৮ ও ৩৩৬৪৯৯-এ সুনির্দিষ্টভাবে বিশেষ নোটে উল্লেখ করা ফর্ম পিজি থ্রি-এইট ফরম্যাটে লিকুইড অ্যাসেট দাখিল করতে হবে। অন্যথায় কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র মূল্যায়নে আসবে না। কিন্তু টেন্ডারে কনস্ট্রাকশন কাজের জন্য প্রযোজ্য পিডাব্লিউ টুএ-থ্রি ফরম্যাটে লিকুইড অ্যাসেট দাখিল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. নুরুল ইসলাম, যা কোনোভাবেই সরবরাহ টেন্ডারের মূল্যায়ন হওয়ার কথা নয় বলে দাবি অভিযোগকারী ঠিকাদারদের। তবু খামার কর্তৃপক্ষ স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের পছন্দের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে দেয়।

আবার ৩৩৬৪৯৯ আইডিতে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে চতুর্থ নিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ায় অন্য ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আফরা সাদেকার স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যে শর্তানুযায়ী টেন্ডারগুলো আহ্বান করা হয়েছে তাতে ইভালুয়েশন হওয়ার কথা না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ স্বজনপ্রীতি ও উৎকাচ গ্রহণ করে তা করেছেন। প্রতারণার বিষয়টি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে। দাপ্তরিক সমাধান না হলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।’

মেসার্স দেশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ চন্দ্র বলেন, ‘গত দুই-তিন বছর ধরে কর্তৃপক্ষ নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাৎসরিক ভিত্তিতে এই খামারে হাঁস-মুরগির খাদ্য ক্রয় করা হয়। প্রতিবছর প্রায় ৭০-৮০ টন হাঁস-মুরগির খাদ্য লাগলেও কর্তৃপক্ষ ১০০ টনের বেশি খাদ্যের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। প্রয়োজনীয় ৭০-৮০ টন খাদ্যের অতিরিক্ত খাদ্য খামার কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়। এতে বছরে এই খামারে সরকারের কয়েক লাখ টাকা গচ্চা যায়।’

মেসার্স তাইম এন্টাপ্রাইজের মালিক কাজী আব্দুল বারিক বলেন, ‘৩৩৬৪৯৮ নম্বর আইডিতে আমি সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কাজ পাইনি। শুধু তা-ই নয়, আমি টেন্ডারের শর্তসমূহ পূরণ করতে ব্যর্থ হলে নিয়মানুযায়ী পরেরজন কাজ পাবেন। কিন্তু খামার ব্যবস্থাপকের যোগসাজশে কর্তৃপক্ষ চতুর্থ স্থানে থাকা মেসার্স দেওয়ান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোং-কে কাজ দিয়েছে। এতেই বোঝা যায় কর্তৃপক্ষ কত বড় দুর্নীতি ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। আর খামার ব্যবস্থাপক পিজি থ্রি-এইট ও পিডাব্লিউ টুএ-থ্রি একই বলে যে দাবি করছেন, তা কোনোভাবেই সঠিক নয়। কেননা পিজি থ্রি-এইট পণ্য সরবরাহের জন্য এবং পিডাব্লিউ টুএ-থ্রি নির্মাণকাজের জন্য, যা পিপিআর-এ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। আমি ইতিমধ্যেই প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ চারজনের নামে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত জবাব না পেলে মামলা করব।’

সিরাজগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগি খামারের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পিজি থ্রি-এইট ও পিডাব্লিউ

টুএ-থ্রি দুটি ফরম্যাট একই। তাই এটিতে কোনো ভুল নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা