kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

শায়েস্তাগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শায়েস্তাগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

মেয়র মো. ছালেক মিয়া

অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. ছালেক মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন পৌরসভার সাত কাউন্সিলর। অভিযোগকারী কাউন্সিলররা হলেন জালাল উদ্দিন মোহন, মাসুদউজ্জামান মাসুক, খায়রুল আলম, আব্দুল জলিল, শিউলী বেগম, মো. নওয়াব আলী ও মোহাম্মদ তাহির মিয়া খান। গত সোমবার নিজেদের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রটি দুদক চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ‘আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর। পৌরসভার মেয়র মো. ছালেক মিয়া ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দ এক কোটি ২০ লাখ টাকা একত্র করে বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার করেন এবং এর মধ্য থেকে কিছু ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ না করেই সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন, যা আইন ও নিয়মের পরিপন্থী।’

এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মেয়র একসময় জেলা পরিষদের রোলার ড্রাইভার ছিলেন। তখন তিনি শ্রমিক লীগ করতেন। একসময় তিনি শায়েস্তাগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। বিগত পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়লাভের পর তিনি বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হন। শায়েস্তাগঞ্জের তালুগড়াই এলাকায় তৈরি করেন চারতলা আলিশান বাড়ি। পাশেই তিনি আরেকটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করছেন। তা ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ১০ শতক, বড়চর এলাকায় ৪০ শতক এবং দক্ষিণ বড়চর এলাকায় তাঁর ২০ শতক মূল্যবান জমি রয়েছে।

বিগত পৌর নির্বাচনে মেয়র ছালেক মিয়ার দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, তিনি একজন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বশিক্ষিত। বার্ষিক আয় দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা। তখন তাঁর কাছে নগদ ছিল এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যাংকে ছিল সাত হাজার ৪২৫ টাকা, স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ছিল আট হাজার টাকা। তাঁর কোনো স্বর্ণালংকার নেই, স্ত্রীর আছে ১০ ভরি। বাসায় মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ, ফ্রিজ ইত্যাদি রয়েছে। কোনো কৃষিজমি নেই, সেমিপাকা একটি টিনশেড ঘর রয়েছে। ব্যাংকে কোনো দায়-দেনা নেই।

কিন্তু মেয়র হওয়ার পর গত পৌনে চার বছরে তিনি বাসায় যে এসি ব্যবহার করেন, তার বিলই নিজের বার্ষিক আয়ের প্রায় সমান।

পৌরসভার কাউন্সিলর খায়রুল আলম বলেন, মেয়র ছালেক মিয়া নিজের পছন্দমতো ৩৪ জন লোককে অবৈধভাবে মাস্টাররোলে পৌরসভায় নিয়োগ দেন। তারা তাঁর বাসায় সার্বক্ষণিক কাজ করেন। তিনি আরো বলেন, দুদকে দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু প্রকল্পের কাজে স্থানীয় সরকার এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জড়িত। আমাদের পৌরসভায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ এলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানোর আবেদন করি। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।’

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন, তিনি এখনো এসংক্রান্ত অভিযোগের অনুলিপি পাননি।

অভিযোগের বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছালেক মিয়া বলেন, ‘এ ব্যাপারে যা বলার, তদন্ত এলেই বলব। তবে এককথায় বলতে পারি, এসব অভিযোগ সত্য নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা