kalerkantho

মুখ থুবড়ে পড়েছে কাজিপুরের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা

সিরাজগঞ্জ (কাজিপুর) প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। একের পর এক দেওয়া সরকারি কোনো প্রণোদনা কাজে আসছে না। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার চাহিদা দিলেও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্য পদ পূরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে কাজে সমন্বয়হীনতার জন্য বরাদ্দবঞ্চিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়াসহ মানসম্মত পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ২৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক হাজার ৪২ জন শিক্ষক ও ৪৬ হাজার ৪৫ জন শিক্ষার্থী আছে। চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৮টি স্কুলে দ্বিতল ভবন নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া প্রতিটি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ১০ হাজার, স্লিপের বরাদ্দ ৫০ থেকে শিক্ষার্থীভেদে ৭০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৯৫টি স্কুল ৪০ হাজার, ১৯টি স্কুল রুটিন মেরামতের এক লাখ ৫০ হাজার ও ২৬টি স্কুল দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সমন্বয়হীনতার কারণে একই স্কুল বারবার বরাদ্দ পাচ্ছে। উপজেলার টিকরাভিটা, ঘাটি শুভগাছা, কালিকাপুর, খামারপাড়া উত্তর, টেংলাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্কুলে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অথচ দক্ষিণ নাটুয়ারপাড়া, আলমপুর মধ্যপাড়, হরিনাথপুর, পানাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্কুলে দ্বিতল ভবন নির্মাণের কাজ চললেও স্কুলগুলোকে ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ‘আটজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র তিনজন। এ নিয়ে যমুনার এপার-ওপারের স্কুলে যাতায়াত ও খোঁজখবর রাখা অত্যন্ত কঠিন। উপজেলা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার নদী ও চর পাড়ি দিয়ে কোনো স্কুলে গিয়ে ফিরে আসতেই একজন কর্মকর্তার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তার পরও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে আমরা স্কুলগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষ বরাবর বরাদ্দের জন্য তালিকা পাঠিয়ে থাকি।’ 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যন খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, ‘গত মাসের সমন্বয় সভায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি মহোদয়কে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন শূন্য পদ পূরণ করার।’ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি জানান, ‘আমি সভাপতি হওয়ার পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর জন্য বরাদ্দ চেয়ে তালিকা আবারও পাঠানো হয়েছে।’ অন্যদিকে ইউএনও জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, ‘বিভিন্ন উন্নয়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দের ভিন্নতা আছে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চাহিদা মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়ে থাকে। যাতে কোনো স্কুল বাদ না পড়ে খেয়াল রাখব।’

মন্তব্য