kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফরিদপুর

হত্যা মামলা থেকে বিএনপি নেতাদের অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফরিদপুরে দায়ের করা একটি হত্যা মামলা থেকে বিএনপি নেতাদের অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রটি গতকাল রবিবার গ্রহণ করেছেন ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারিক হাকিম ওসমান গণি।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গীতে গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় একটি চায়ের দোকানে ইউসুফ বেপারি ওরফে আল মামুন (৩৬) ও একই গ্রামের মজিদ মোল্লা একসঙ্গে বসে চা পান করছিলেন। ওই সময় রাজনীতি ও নির্বাচনসংক্রান্ত কথাবার্তাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বচসা হয়। এর জের ধরে মজিদের চাচাতো ভাই ইমান মোল্লা (৪৩) ইউসুফকে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারেন। কিছুক্ষণ পর ইউসুফ বেপারী বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ইউসুফ বেপারী নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক ছিলেন।

এ ঘটনায় ইউসুফের ভাই সোহরাব বেপারী বাদী হয়ে ওই রাতেই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ৪০ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে ওই নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়েবা ইউসুফ (৪২), জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার হোসেন (৪৫), জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে কিবরিয়া (৫০), মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ (৪০), জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন (৩২), শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা (৪৮), শহর বিএনপির সভাপতি রেজোয়ান ইসলামসহ (৫৮) দলের অনেক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নায়াবা ইউসুফস, এ কে কিবরিয়াসহ অন্তত ১২ জন এ মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাবন্দি ছিলেন। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আশরাফ (৫৩), গেরদা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মিয়াসহ বিএনপির ১৫ জন নেতাকর্মীকে।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। গত ১৭ আগস্ট তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই অভিযোগপত্রে নায়াবা ইউসুফসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সব নেতাকর্মীকে এ হত্যা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আসামিরা হলেন গোলডাঙ্গী এলাকার মনির হোসেন (৪০) এবং জৈনদ্দিন মোল্লার চার ছেলে কবীর মোল্লা (২৫), মজিদ মোল্লা (৩৬), ইমান মোল্লা (৩৬) ও ইউনুস মোল্লা (৪০)।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, গতকাল রবিবার জেলার ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারিক হাকিম এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে এ মামলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের অব্যাহতি দেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদ্যোবিদায়ি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী বলেন, পুলিশ নেতাকর্মীদের হয়রানিমূলক মামলার দায়ভার থেকে মুক্তি দিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে। আদালত সেটি গ্রহণ করায় সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা