kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কিশোরগঞ্জ

নামজারি ডিসিআর পরচা খাজনা জাল

নাসরুল আনোয়ার, হাওরাঞ্চল   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে জালিয়াতচক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রের সদস্যরা ভুয়া নামজারি, ডিসিআর ও খাজনার রশিদ বানিয়ে ফেলছে। আরএস রেকর্ড জাল হচ্ছে। এসব জাল নথিতে সৃজিত দলিল সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে নিবন্ধন করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের টাকায় এ জালজালিয়াতির বাণিজ্য বেশ রমরমা। এর পেছনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলিল লেখকদের একটি অংশ জড়িত।

বাজিতপুর উপজেলার দিলালপুর বাজারে শাহনগর গ্রামের আব্দুর রৌফ ও তাঁর ভাইদের মালিকানাধীন প্রায় সোয়া আট শতাংশ ভিটা রয়েছে। এসএ ১৫২৮ দাগের শ্রেণি ‘কান্দা’। আবার এসএ ১৫২৯ দাগে শ্রেণি ‘চান্দিনা’ (দোকান)। দলিলপত্র ঘেঁটে জানা যায়, পুরো জায়গাটি বিক্রির জন্য ভূমির মালিকরা বড়খাঁটোলা গ্রামের ঠিকাদার মো. জামিল উদ্দিনের সঙ্গে ১৫ লাখ ১০ হাজার টাকার বায়নাপত্র করেন। সম্ভাব্য ক্রেতা জমির মালিককে এক লাখ ১০ হাজার টাকাও অগ্রিম পরিশোধ করেন। ঘটনাটি প্রায় এক বছর আগের।

দোকানঘরের খাজনা এবং নামজারি জমাখারিজের ওপর সরকারের অনাগ্রহ রয়েছে। যে কারণে ২০১৪ সাল থেকে এ ধরনের ভূমির খাজনা আদায় এবং জমাখারিজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। উল্লিখিত সোয়া আট শতাংশ জমির একাংশ চান্দিনা ভিটে হওয়ায় মালিকপক্ষ বেচতে পারছিল না। তবে জায়গার মালিকরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অন্য একটি পক্ষের কাছে বেচেছে। অভিযোগ মতে, দলিলপ্রতি ‘সেরেস্তা’ নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৭৫০ টাকা।

একাধিক দলিল গ্রহীতা জানায়, দলিল নিবন্ধনের বেলায় আরএস পরচার মূল কপি ছাড়া ফটোকপি দাখিল করলে ঘুষ দিতে হয় অতিরিক্ত ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা। হেবা ঘোষণা বা দানপত্র দলিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আরো এক হাজার ২০০ টাকা মিলিয়ে দুই হাজার ৯৫০ টাকা আদায় করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বাজিতপুর উপজেলার খণ্ডকালীন সাবরেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসানের মোবাইল ফোনে গতকাল শনিবার কল করলেও তিনি ধরেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (বাজিতপুর) মো. জুবায়ের বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. জিয়াউল হক জানান, জাল কাগজপত্র জেনেও কোনো সাবরেজিস্ট্রার দলিল নিবন্ধন করেছেন বলে তাঁর জানা নেই। কেউ এমন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা