kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তাড়াশের হাট বাজার

রাজস্ব আছে, উন্নয়ন নেই

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হাট-বাজারগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না। বাজারের রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরা, ড্রেনগুলো আবর্জনায় পূর্ণ, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, নেই গণশৌচাগার, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা আর অস্বস্তিকর পরিবেশেই বেচাকেনা চলছে। অথচ এবারও উপজেলার হাট-বাজারগুলো ইজারা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে দুই কোটি আড়াই লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে ইজারাদার ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন তিন বছর ধরে হাট-বাজার উন্নয়নের টাকা আটকে রাখায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী বার্ষিক আয়ের ১৫ শতাংশ দিয়ে হাট-বাজার উন্নয়নের নিয়ম রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, তাড়াশ উপজেলায় আট ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলে ২৩টি হাট ও বাজার রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ইজারা দেওয়া হয়েছে। অন্য পাঁচটি থেকে খাস আদায় করা হচ্ছে।

সরকারের হাট-বাজারের ইজারা পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা ও আয় বণ্টন নীতিমালা অনুযায়ী, হাট ইজারার শতকরা ১৫ টাকা সংশ্লিষ্ট হাটের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজে খরচ করতে হবে। বিক্রয় ছাউনি, গণশৌচাগার, নলকূপ ইত্যাদি উন্নয়নকাজের জন্য ইজারার শতকরা ১০ টাকা উপজেলা উন্নয়ন তহবিলে জমা করতে হবে। তা ছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে শতকরা পাঁচ টাকা করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অন্য যেসব হাটে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর উন্নয়নমূলক কাজ করছে, সেসব হাটে শতকরা ১৫ টাকার পরিবর্তে প্রয়োজনে শতকরা ২৫ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া যাবে। কিন্তু তাড়াশ উপজেলা প্রশাসন হাট-বাজার ইজারার টাকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় না করে আটকে রাখায় এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহিষলুটি মাছের বাজার ও নওগাঁ হাটে গিয়ে দেখা যায়, অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেই। ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও ভোগান্তির শেষ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সুপেয় পানির জন্য নেই পর্যাপ্ত নলকূপ। বিক্রেতারা বিক্রয় ছাউনির অভাবে পলিথিন টানিয়ে বেচাবিক্রি করছেন। ডাস্টবিন নেই, রাস্তার ওপর হাট বসায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাও নাজুক। ইতিপূর্বে যেসব হাট শেড নির্মাণ করা হয়েছিল, তার বেশির ভাগই ফুটা হয়ে ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন টেন্ডার না থাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে আছে।

মহিষলুটি মাছের বাজারের আড়তদার সমবায় সমিতির সেক্রেটারি কিসমত আলী দুলু বলেন, অবস্থা এতই নাজুক যে বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। অবর্ণনীয় কষ্টের মাঝে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কেনাবেচা করতে হয়।

নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু বলেন, ‘উপজেলা সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ প্রসঙ্গে বহুবার কথা বলেছি; কিন্তু উপজেলা প্রশাসন তাতে সাড়া দেয়নি।’

তাড়াশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘দীর্ঘ তিন বছর ধরে টাকা আটকে আছে। তবে আশা করছি, শিগগিরই প্রকল্প আকারে উন্নয়ন করা হবে।’

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘আমি এখানে নবাগত। বিষয়টি আমার জানা নেই। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা