kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুন্দরগঞ্জ বাইপাস-ধর্মপুর ও ধুবনী মোড়

সড়কে জলাবদ্ধতা

মামুন-উর-রশিদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়কে জলাবদ্ধতা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাইতানতলা বাজারে সড়কের জলাবদ্ধতা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক বেহাল। বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। ক্রমেই রাস্তা সরু হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় সড়কের সংস্কারকাজ করলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ফের নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

গাইবান্ধা সওজের তথ্য মতে, ২০০৪ সালে আঞ্চলিক মহাসড়কটি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। রংপুরের সীমানা থেকে গাইবান্ধা শহরের জেলখানা পর্যন্ত সওজের রাস্তা আছে মোট ৫১ কিমি। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ কিমি সড়ক সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। সড়কটি বামনডাঙ্গা থেকে শুরু হয়ে সুন্দরগঞ্জ বাইপাস-ধর্মপুর ও ধুবনী মোড় হয়ে সদরে প্রবেশ করেছে। এই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় প্রায় পাঁচ শতাধিক যান চলাচল করে। সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাঁকে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর এসব গর্ত ভরাট না করায়, জলাবদ্ধতার কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনাসহ গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে প্রায় ১৭ কিমি সড়ক সংস্কার করা হলেও তা ফের নষ্ট হয়ে গেছে। আর সড়কের বাকি অংশগুলো মেরামতে উদ্যোগ না নেওয়ায় সে স্থানগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।  অন্যদিকে সড়কের দুই ধারের ভাঙনে অনেক স্থানে সড়ক সরু হয়ে গেছে। ফলে ভারী যানবাহন বাইপাস করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া বেশ কিছু স্থানে খানাখন্দে জলবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় খোয়া ও বালু উঠে যাচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে সড়কটি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত রাস্তার ত্রুটিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করার।

উপজেলার ছাইতানতলা এলাকার যুবক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা মেরামত না করায় কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা না হলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।’ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দোকানের সামনে প্রায় ২০০ মিটার রাস্তার পাথর ও বালু উঠে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝেমধ্যে এসব জায়গায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এসব যেন দেখার কেউ নেই।’

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কয়েক দফায় সড়কের ত্রুটিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামত করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় আবারও সেসব স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘চলতি বছরে আমাদের মোট ৫১ কিমি সড়ক সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই আমরা এই সড়কটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনব।’

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলেছি। আশা করছি, এই অর্থবছরেই কাজ শুরু হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা