kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ-হিজলগাড়ি-উথলী সড়ক

২২ কিমি নাজুক

মানিক আকবর, চুয়াডাঙ্গা   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২২ কিমি নাজুক

চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে থেকে হিজলগাড়ি রাস্তায় গর্ত। ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ-হিজলগাড়ি-উথলী সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে এ দুটি রাস্তায় দেখা দিয়েছে বড় বড় গর্ত। গত কয়েক মাসে বৃষ্টির কারণে অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়েছে। অনেকে এ রাস্তা ব্যবহার না করে অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তার আশপাশের গ্রামগুলোর বেশির ভাগ মানুষের ভিন্ন উপায় নেই।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরোজগঞ্জ থেকে হিজলগাড়ি বাজার পর্যন্ত সড়কটি ১৪ কিলোমিটার। এ সড়কের দুই পাশে আছে খাড়াগোদা বাজার, সড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ, হিজলগাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি হাট-বাজার। এই ১৪ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বসবাসকারীদের চুয়াডাঙ্গা শহর কিংবা ঝিনাইদহে যেতে হলে এ সড়ক ব্যবহার করতে হয়। অন্য কোনো উপায় না থাকায় ভাঙাচোরা এ সড়ক ব্যবহার করেই যাতায়াত করে থাকে গ্রামের কৃষক, শিক্ষার্থীসহ সবাই।

সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারটি এলাকার বড় ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে হিজলগাড়ি বাজারটিও বড় ব্যবসাকেন্দ্র। এ দুটি ব্যবসাকেন্দ্রের একমাত্র সংযোগ সড়কটি হলো সরোজগঞ্জ থেকে হিজলগাড়ি ১৪ কিলোমিটার সড়ক। সড়কটির নাজুক অবস্থার কারণে দুটি বাজারের ব্যবসায়ী এবং এলাকার ছাত্র, চাকরিজীবী, কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘদিন পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

অন্যদিকে হিজলগাড়ি বাজার থেকে উথলী পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তাটিও প্রায় তিন বছর ধরে ভাঙাচোরা। এ রাস্তারও বিভিন্ন স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আট কিলোমিটার এ রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের উথলী কলেজ, ব্যবসায়ীদের শিয়ালমারী হাট কিংবা জীবননগর যাতায়াত করতে হয়। কৃষিপণ্য বিভিন্ন হাটে পৌঁছতে হলে দুটি রাস্তাই কৃষকদের ব্যবহার করতে হয়। রাস্তা ভাঙাচোরা থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয় তিনটি ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ জনসাধারণকে।

হিজলগাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হয় সরোজগঞ্জ হাটে। সরোজগঞ্জে প্রতি শুক্র ও সোমবার হাটের দিন। ১৪ কিলোমিটারের এ রাস্তাটি ছাড়া সরোজগঞ্জ যাওয়ার ভালো কোনো রাস্তা নেই। এ কারণেই কৃষকরা রাস্তাটি ব্যবহার করেছে বছরের পর বছর। কিন্তু তিন বছর ধরে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

হিজলগাড়ি বাজারের আরিফ হোসেন বলেন, ‘এ রাস্তার বলদিয়া মাদরাসা মোড়, গোপালনগর মোড় এবং সরোজগঞ্জ প্রধান রাস্তার কাছে সবচেয়ে বেশি ভেঙে যাওয়ায় এসব স্থানে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানি জমে থাকা অবস্থায় রাস্তা সম্পর্কে ধারণা নেই এমন কেউ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ার ভয় থাকে। এসব স্থানে এর আগে অনেক ভ্যান, আলম সাধু ও ইজি বাইক উল্টে পড়ে গেছে।’

সরোজগঞ্জ বাজারের ভুসিমাল ব্যবসায়ী আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরোজগঞ্জ থেকে হিজলগাড়ি রাস্তা তিন বছর ধরে খারাপ। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জিজ্ঞেস করলে বলেন টেন্ডার হয়ে গেছে, কাজ হবে; কিন্তু বাস্তবে কোনো কিছুই হয় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা