kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বনের চৌহদ্দিতে করাতকল উজাড় হচ্ছে শাল-গজারি

ঘাটাইলের সংরক্ষিত বন এলাকায় গড়ে উঠেছে দেড় শতাধিক অবৈধ করাতকল। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় বন এলাকা পরিণত হচ্ছে বিরানভূমিতে

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বনের চৌহদ্দিতে করাতকল উজাড় হচ্ছে শাল-গজারি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সংরক্ষিত বন এলাকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে দেড় শতাধিক অবৈধ করাতকল। ছবিটি উপজেলার সাগরদীঘি বন এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সংরক্ষিত বন এলাকায় গড়ে উঠেছে দেড় শতাধিক অবৈধ করাতকল (সমিল)। বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাঠ ব্যবসায়ীদের একটি চক্রের সহযোগিতায় নিয়মিত মাসোয়ারার বিনিময়ে পরিচালিত হচ্ছে এসব করাতকল। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অবৈধ করাতকল মালিক, কাঠ ব্যবসায়ী ও কাঠ চোররা।

স্থানীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জের আওতায় বটতলী, ঝড়কা, চৌরাসা, দেওপাড়া, ধলাপাড়া ও সাগরদীঘি নামের ছয়টি বিট রয়েছে। এই রেঞ্জের আওতাধীন বন বিভাগের পরিমাণ ৮৮.৪৫ বর্গকিলোমিটার। আর ৪৯টি মৌজায় বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ২৯১০৬.৭৬ একর।

ঘাটাইলের বিশাল বনভূমিতে রয়েছে শাল, গজারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামাজিক বনায়নের গাছ। বন আইনে সংরক্ষিত বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের বিধি-নিষেধ রয়েছে। কিন্তু তা অমান্য করে সংরক্ষিত শাল-গজারির বন ঘেঁষে এসব অবৈধ করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। আর এতে অবাধে চিরানো হচ্ছে শাল, গজারিসহ সামাজিক বনের কাঠ। শুধু স্থানীয় প্রশাসন ও বন কর্মকর্তাদের মৌখিক অনুমতি নিয়েই চলছে এসব করাতকল। বছরের পর বছর ধরে এগুলো চললেও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অভিযান না থাকায় বন এলাকা ধীরে ধীরে বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে।

ঘাটাইল উপজেলার সংরক্ষিত বন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন বিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের ছয়টি বিটের আওতায় ১০০টির বেশি অবৈধ করাতকল রয়েছে। তবে ঘাটাইল পৌরসভার করাতকল মালিক সমিতির দাবি, অবৈধ করাতকলের সংখ্যা দেড় শতাধিক। সংরক্ষিত বন এলাকার ধলাপাড়া, সাগরদীঘি, দেওপাড়া, গারোবাজার, মাকড়াই, ছনখোলা, বটতলা, নলমা, কুশারিয়া, পেচারআটা, মাইধারচালা, কাজলা, দেওজানা, চাপড়ী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকপুর, বোয়ালীহাটবাড়ী, শহরগোপিনপুর, জোড়দীঘি, মুরাইদ, লক্ষ্মীন্দর, সিংহেরচালা, শিবেরপাড়া, মালেঙ্গা, মোমিনপুর, বগা ও ফকিরচালা এলাকায় এসব অবৈধ করাতকল স্থাপন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পৌর করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আ. হালিম বলেন, ঘাটাইল উপজেলায় দেড় শতাধিক করাতকল লাইসেন্সবিহীন। এ ব্যাপারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানায়, বনের ভেতরে স্থাপিত বেশির ভাগ করাতকলের মালিক কাঠ ব্যবসায়ী। তাদের সঙ্গে কাঠ চোরদের দহরম-মহরম সম্পর্ক। করাতকল মালিক ও কাঠ চোররা মিলেমিশে সংরক্ষিত বনের গাছ সাবাড় করলেও এ ব্যাপারে বন বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।

বনের ভেতর করাতকল বন্ধ করার বিষয়ে উপজেলা বন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, ‘গত আগস্ট মাসের মাসিক সভায় স্থানীয় এমপির উপস্থিতিতে অবৈধ করাতকল উচ্ছেদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত সংরক্ষিত বন এলাকায় স্থাপিত করাতকল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করবে।’

এ ব্যাপারে ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, ঘাটাইলের ধলাপাড়া রেঞ্জের আওতায় ১০১টি করাতকল রয়েছে। এর একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, শিগগিরই বন বিভাগের ভেতরে স্থাপিত অবৈধ করাতকল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা