kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শত সাঁকোর রৌমারী

বন্যার ক্ষত কাটেনি, নেই সড়ক যোগাযোগ

কুদ্দুস বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শত সাঁকোর রৌমারী

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ে গড়ে ওঠেনি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা ছিল গত বন্যায় তা নষ্টের পর মেরামত হয়নি। স্থানীয়রা ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় এক শ সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে।

সরেজমিন উপজেলার ছয় ইউনিয়ন ঘুরে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থার নাজুক চিত্র পাওয়া গেছে। গত বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। অসংখ্য সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপজেলা শহর থেকে ইউনিয়ন ও গ্রামে যেটুকু সড়ক যোগাযোগ ছিল বর্তমানে তা চরম দুরবস্থা বিরাজ করছে। সড়ক সেতু ভেঙে যাওয়ার ফলে স্থানীয় মানুষ ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁশের সেতু তৈরি করে যোগাযোগ রক্ষা করছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এমন বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে ১০০টিরও বেশি জায়গায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতস্থানগুলো এখনো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কেননা ভাঙা থাকার কারণে তাঁদের গাড়ি যাচ্ছে না। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা যাতায়াতে অসুবিধার জন্য দুর্গম এলাকার স্কুলগুলো পরিদর্শন করছেন না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় ও স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১০০টিরও বেশি স্থানে বাঁশের সেতু তৈরি করেছে স্থানীয় জনসাধারণ। ওই সব ক্ষতস্থানের আশপাশের মানুষ ভাঙা স্থানে পাকা সেতু নির্মাণের আবেদন জানিয়েছে। ক্ষতস্থানে দ্রুত পাকা সেতু-কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন খাত, টিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন) ও কাবিখা (কাজের বিনিময় খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি যোগাযোগব্যবস্থায়। গ্রামীণ অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ উন্নয়ন খাতের বিপরীতে বরাদ্দ টাকা নিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যানরা নামেমাত্র কাজ করেন। বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন। ফলে অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটে না।

এদিকে উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভঙ্গুর থাকার কারণে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে না। প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। উপজেলা শহরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলে এর সুফল পায় না সাধারণ মানুষ। যোগাযোগের অভাবে সময়মতো হাসপাতালে আনতে না পেরে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ সংস্কার ও নির্মাণে প্রশাসন কার্যকরী কোনো উদ্যোগও নিচ্ছে না।

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যায় ক্ষতস্থানে সেতু-কালভার্ট নির্মাণে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই দ্রুত কাজ করা হবে।

উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর হোসেন জানান, বন্যায় তাঁর ইউনিয়নের শতভাঙ্গা এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। পানির স্রোতে তাঁর এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক। অসংখ্য ভাঙা স্থানে মানুষ বাঁশের সেতু তৈরি করলেও তা যাতায়াতে সমস্যা করছে।

যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরবেশ আলী জানান, কমপক্ষে ২৫টি স্থানে সড়কের বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যাতায়াত করতে না পারায় সাময়িকভাবে ওই সব স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার সব ইউনিয়নেই।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বীপঙ্কর রায় জানান, জেলার মধ্যে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রৌমারী উপজেলায়। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ এটা সত্য। আমরা দ্রুত ক্ষতস্থানগুলো মেরামত বা পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই কাজ শুরু করা হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা